
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর:
শেরপুরের নালিতাবাড়ীসহ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা এখনো পিছু ছাড়ছে না। বোরো ধান ঘরে তোলার এই ভরা মৌসুমে আকস্মিক বন্যায় জেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
স্থানীয় সূত্র ও কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা ঢলের কারণে জেলার ভোগাই, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গত বুধবার (১৩ মে) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতীসহ সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল আকস্মিকভাবে পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে ঢলের তীব্র স্রোতে পানি ঢুকে পড়ায় বোরো খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করলেও শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা তা কাটতে পারেননি। কোথাও কোথাও ক্ষেতে কেটে রাখা ধানও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে।
কৃষকরা জানান, সোনালী স্বপ্ন যখন ঘরে তোলার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রকৃতির এমন আচরণ তাদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। একদিকে ঢলের পানি, অন্যদিকে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গ্রামীণ সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যানবাহনের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় এবং বাজারে ধানের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তায় কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
শেরপুর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রথম দফার বৃষ্টিপাত ও ঢলে প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল আক্রান্ত হয়েছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পরবর্তীতে রোদ ওঠায় এবং নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করায় অধিকাংশ খেত থেকে পানি নেমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬৭ শতাংশ বোরো ফসল কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া যদি এখন অনুকূলে থাকে এবং নতুন করে বড় কোনো ভারী বর্ষণ না হয়, তবে ক্ষতির মাত্রা বড় আকারে হবে না বলে আমরা আশা করছি।”
বৃষ্টির কারণে ধান কাটার শ্রমিকরা মাঠে নামতে না পারায় অনেক জায়গায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসময়ে এমন বৃষ্টি ও ঢল বারবার কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের জন্য আগাম বন্যা সহনশীল ধানের জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
আপাতত বৃষ্টি থামায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আকাশ মেঘলা থাকায় এবং নতুন করে ঢলের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে শেরপুরের হাজার হাজার কৃষকের।