
শাহিন হাওলাদার, বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ২০২১ সালের ৮ জুন একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল পায়রা-পাণ্ডব নদীর ওপর নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরিশাল (দিনারেরপুল) লক্ষ্মীপাশা-দুমকি সড়ক (জেড-৮০৪৪) এর ২৭তম কিলোমিটারে এই সেতু নির্মাণের জন্য এক হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেতুটি নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে।
কিন্তু চার বছর পার হলেও এখনও সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সেতু না থাকায় প্রতিদিন ফেরি ব্যবহার করে হাজারো মানুষ ও যানবাহন পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত একনেকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নলুয়া-বাহেরচর এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের জন্য নলুয়া-বাহেরচরের স্থানের পরিবর্তে জলিসা-দাসপাড়া এলাকায় কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রথম অনুমোদিত প্রকল্পের জায়গা বাদ দিয়ে নতুন স্থানে নির্মাণ হলে জমি অধিগ্রহণ, রাস্তা নির্মাণ ও ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নলুয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ খান জানান, “সেতু যদি নতুন জায়গায় নির্মাণ করা হয়, তাহলে নলুয়া ইউনিয়নের প্রধান সড়ক থেকে দুরত্ব বেড়ে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হবে। এই এলাকার মানুষ সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে এবং সরকারের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে।”
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সেতুটি একনেকে অনুমোদিত স্থানে নির্মাণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুর নকশা, হাইড্রোলিক ও মরফোলজিক্যাল স্টাডি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আবু এহতেশাম রাশেদ জানিয়েছেন, “সেতুর টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের জুন-জুলাই মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”
সেতুটি নির্মাণ হলে বাকেরগঞ্জ ও দুমকি দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।