
মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সহকারী শিক্ষিকা সুলতানা পারভীনের ওপর বাশার বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলা, শ্লীলতাহানি ও দাঁত ভেঙে দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বন্দভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কালীনগর এলাকার বাশার, দেলোয়ার গংরা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষিকা সুলতানা পারভীনের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং লোহার রড দিয়ে আঘাত করে নিচের পাটির একটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এই ন্যাক্কারজনক বর্বরতা পুরো শিক্ষা অঙ্গনকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা সুলতানা পারভীন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা বেগম এবং ভুক্তভোগীর স্বামী মো. মাসুদুর রহমানসহ আরও অনেকে। শিক্ষক–শিক্ষার্থী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে পূর্বের বিরোধের জেরে বন্দভাটপাড়া এলাকায় বাদী মো. মাসুদুর রহমান ও তার স্ত্রী সুলতানা পারভীনের ওপর বাশার বাহিনী মারাত্মক হামলা চালায়। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আবুল বাশার (৫২), দেলোয়ার হোসেন (৩৫), গুলেরা বেগম (৫০)সহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র ও লাঠি–সোটা নিয়ে তাদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়।
প্রতিবাদ করলে বাদীকে মারধর করা হয়। স্ত্রী সুলতানা পারভীন এগিয়ে এলে আবুল বাশার লোহার রড দিয়ে তার মুখে আঘাত করেন, এতে নিচের পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে—দেলোয়ার হোসেন তার গলা থেকে ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয় এবং ওই নারীকে টেনে–হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।