1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডিগ্রীরচর বড় ঈদগাঁহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতর নামাজ অনুষ্ঠিত হয় হাবিবুল্লাহনগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ইউপি সদস্য শাহাদৎ হোসেন বাঘায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মরিচপুরান ইউনিয়নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সুলাইমান সিদ্দিকী সানি পঞ্চগড়ে অসহায়দের মাঝে ‘আগুন তোলা স্বপ্ন ছোঁয়া’ সংগঠনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ কামারের চর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ২০০ অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো ফেসবুক গ্রুপ ‘আমাদের বাঘা’ জলঢাকাবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক আল আমিন ইসলাম বাঘবেড় ইউনিয়নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রহুল ইসলাম শেরপুরে দুই শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে সাবেক ছাত্রনেতা বুলবুল আহম্মেদের ঈদ উপহার বিতরণ

সংগ্রাম ও সাফল্যের চার দশক: এক নজরে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মহাকাব্য

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিবেদন | ঢাকা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে যে কজন ব্যক্তিত্ব অদম্য সাহস আর আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় নাম বেগম খালেদা জিয়া। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে সেনাপত্নী, আর সেখান থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার গল্পটি কোনো উপন্যাসের চেয়ে কম নয়। আজ তাঁর প্রয়াণে অবসান হলো চার দশকের এক বর্ণাঢ্য ও কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়ের।

রাজনীতিতে অভিষেক: শোক থেকে শক্তিতে রূপান্তর

১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় এক বিষাদময় পরিস্থিতিতে। ১৯৮১ সালে স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে, তখন দলের হাল ধরতে রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর এই যাত্রা। ১৯৮৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আপসহীন নেত্রী ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন

নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। দীর্ঘ ৯ বছরের আন্দোলনে তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি। তাঁর এই অনমনীয় অবস্থানই ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল এবং দেশে গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ঘটিয়েছিল।

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন খালেদা জিয়া। তাঁর সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন ঘটে। এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মোট তিন মেয়াদে তিনি দেশের শাসনভার পরিচালনা করেছেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন ও সংস্কার

বেগম জিয়ার শাসনামল বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে:

  • নারী শিক্ষা: মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু।

  • উন্নয়ন: অবকাঠামো উন্নয়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার।

  • প্রতিরক্ষা: জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করা।

  • যমুনা সেতু: দেশের অন্যতম বৃহৎ যমুনা বহুমুখী সেতুর কাজ সম্পন্ন ও উদ্বোধন।

সংকট ও সংগ্রামের শেষ অধ্যায়

রাজনৈতিক জীবনের শেষ দেড় দশক বেগম জিয়ার জন্য ছিল চরম অগ্নিপরীক্ষার। ১/১১ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালে তাকে কারাগারে যেতে হয়। পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সরকারের নির্বাহী আদেশে তিনি নিজ বাসায় অন্তরীণ ছিলেন। বারবার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার আবেদন করা হলেও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ রোগভোগের পর আজ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ চিরবিদায় নিলেন এই মহীয়সী নারী।

উপসংহার

বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি মানুষের আবেগ। জেল-জুলুম, ব্যক্তিগত বিয়োগব্যথা আর শারীরিক অসুস্থতা—কোনো কিছুই তাঁর জনপ্রিয়তায় চির ধরাতে পারেনি। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা থাকবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা এক অকুতোভয় সেনানী হিসেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট