
নিউজ ডেস্ক | ঢাকা নতুন বছরের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো সরকার। দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল এবং অকটেনের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম এখন নিম্নরূপ:
ডিজেল: ১০২ টাকা (পূর্বমূল্য ১০৪ টাকা)
কেরোসিন: ১১৪ টাকা (পূর্বমূল্য ১১৬ টাকা)
পেট্রোল: ১১৮ টাকা (পূর্বমূল্য ১২০ টাকা)
অকটেন: ১২২ টাকা (পূর্বমূল্য ১২৪ টাকা)
জ্বালানি বিভাগ জানায়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত বছরের মার্চ মাস থেকে দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (Dynamic Pricing) চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসেই এখন নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত অনুযায়ী এবং উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে সরকার।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে সিংহভাগই (প্রায় ৭৫ শতাংশ) ডিজেল। পরিবহন খাত, কৃষি সেচ ও জেনারেটরে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এর দাম কমার প্রভাব বাজারে ইতিবাচক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম সরকার নির্ধারণ করলেও এলপিজি, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের মানুষ তার সুফল সরাসরি পাবে।