
মোঃ আমজাদ হোসেন ,পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে চাঞ্চল্যকর ইয়ানুর হোসেন (৩২) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান এজাহারনামীয় আসামি গোলাম মোস্তফাকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন কালামপুর বাজার এলাকায় র্যাব-৫ ও র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত গোলাম মোস্তফা জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার কুসুম্বা ইউনিয়নের গোহারা গ্রামের হানিফের ছেলে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে পাঁচবিবি থানাধীন শালাইপুর এলাকায় এক বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভিকটিম ইয়ানুর হোসেন তার বন্ধু আল-আমিনকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে শালাইপুর বাজারে যাচ্ছিলেন। তারা শালাইপুর পুকুরপাড় এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করে।
গ্রেফতারকৃত গোলাম মোস্তফার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ১৮ জন নামীয় এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকরা চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোটা দিয়ে ইয়ানুর ও আল-আমিনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পিটাতে থাকে। তাদের আর্তচিৎকারে রুবেল ও আলম নামের দুই বন্ধু উদ্ধারে এগিয়ে এলে আসামিরা তাদেরও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।
হামলাকারীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে ইয়ানুরের মাথা, মুখ ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ইয়ানুরকে উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর গুরুতর আহত আল-আমিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ মুমিনুর ইসলাম বাদী হয়ে গত ১১ জানুয়ারি পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১)। ঘটনার পর থেকেই ঘাতকরা আত্মগোপনে চলে যায়। মামলাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব-৫, সিপিসি-৩ এর একটি আভিযানিক দল আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে প্রধান আসামি গোলাম মোস্তফা ঢাকার ধামরাই এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার র্যাব-৫ এবং র্যাব-৪ এর একটি যৌথ দল ধামরাইয়ের কালামপুর বাজারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রোববার (১৮ জানুয়ারি) পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।