
মনিরুজ্জামান লিমন
বকশীগঞ্জ (জামালপুর)
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অপেক্ষমাণ তালিকা (ওয়েটিং লিস্ট) জালিয়াতি করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৫৫টি শূন্য আসনের বিপরীতে অনলাইনে ২৩০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৫৫ জনের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমানুসারে ওই আসনগুলো পূরণ করার কথা ছিল।
কিন্তু অভিভাবকদের অভিযোগ, অপেক্ষমাণ তালিকায় মেধাক্রমে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে পেছনের সারির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী যোগ্য অভিভাবকদের না জানিয়ে গোপনে এই ‘ভর্তি বাণিজ্য’ চালানো হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
ভুক্তভোগী অভিভাবক মোহাম্মদ রেজুয়ান মিয়া বলেন, “আমার মেয়ের সিরিয়াল সামনে থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক নুর মোহাম্মদ নানা অজুহাতে আমাদের ফিরিয়ে দেন। পরে জানতে পারি, বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়েছে। সরকারি স্কুলে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক নুর মোহাম্মদ এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। তবে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল হাই জানান, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।