
শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি | ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
শেরপুরের শ্রীবরদীতে কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই পুনরায় চালু করা হয়েছে অধিকাংশ ইটভাটা। বিশেষ করে দীর্ঘ ৬ বছর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইটভাটা ‘পিনাকী এন্ড কোং’ নতুন করে চালু হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রীবরদী পৌরসভার অন্তর্গত ‘পিনাকী এন্ড কোং’ ইটভাটাটি ২০১৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ইটভাটাটির মাত্র ৫০০-৬০০ মিটারের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিনি স্টেডিয়াম, মাদরাসা, বাজার ও জনবসতি থাকায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী এর ছাড়পত্র নবায়ন নামঞ্জুর করা হয়েছিল। তখন সকল স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে অদৃশ্য ইশারায় ভাটাটি আবারও চালু করা হয়েছে।
কেবল পিনাকী এন্ড কোং নয়, ভায়াডাঙ্গা রোডে অবস্থিত ‘এবিএম অটো ব্রিকস’ সহ উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে। উল্লেখ্য যে, এবিএম অটো ব্রিকসটি গত বছর আদালতের নির্দেশনায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এবারও ভাটার কার্যক্রম সচল করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই অদৃশ্য কারণে আবারও সচল হয়ে উঠছে চিমনিগুলো। এতে করে সীমান্তবর্তী এই উপজেলার কৃষি জমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
এ ব্যাপারে শেরপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সুশীল কুমার দাস বলেন:
“শ্রীবরদীতে বর্তমানে কোনো ইটভাটারই বৈধ ছাড়পত্র নেই। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। অনুমোদনবিহীন অন্যান্য ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে পুনরায় চালু হওয়া এসব অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।