
আশিকুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি | অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
গাজীপুর: গাজীপুরের টঙ্গীতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে দুটি অবৈধ ওয়াশিং কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) টঙ্গীর ফকির মার্কেট, দেওড়া ও ভাদাম মুদাফা রোড এলাকায় দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মনিজা খাতুন অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিতাস গ্যাসের টঙ্গী আঞ্চলিক বিপণন কেন্দ্র (জোবিই-টঙ্গী) ও আবিবি-জয়দেবপুর এই অভিযানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল।
অভিযান চলাকালে দুটি স্পটে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়:
১. এফ টু আর টেক্স সলিউশন: প্রথম স্পটে এই কারখানায় ৩/৪ ইঞ্চি লাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। মোবাইল কোর্ট প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে। এ সময় ২০০ ঘনফুট/ঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ওভেন এবং ৯০০ ঘনফুট/ঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন ১টি বয়লারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
২. বিসমিল্লাহ জিন্স প্রসেসিং প্লান্ট: দ্বিতীয় স্পটে এই কারখানাতেও একই কায়দায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এখানে ২০০ ঘনফুট/ঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি ড্রায়ার ও ১৫০০ ঘনফুট/ঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন ১টি বয়লার বিচ্ছিন্ন করা হয়।
অভিযানকালে সর্বমোট আনুমানিক ১৪০ ফুট অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ করা হয়। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সব মিলিয়ে বিচ্ছিন্নকৃত গ্যাস লোড ছিল প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০০ ঘনফুট। তবে এ ঘটনায় কোনো নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়নি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মনিজা খাতুন বলেন, “অবৈধ গ্যাস ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিতাস গ্যাস টঙ্গী জোনের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মিজবা-উর-রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অবৈধ ওয়াশিং কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় তিতাসের এই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।
অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের উপ-ব্যবস্থাপক (গাজীপুর) গোলাম রব্বানী, টঙ্গী জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাঈম হাসান, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াহাবসহ তিতাসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।