
মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
ঋতুচক্রের আবর্তনে দরজায় কড়া নাড়ছে মধু মাস। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গ্রামগঞ্জের প্রতিটি কাঁঠাল গাছে এখন শোভা পাচ্ছে থোকা থোকা কাঁঠালের মুচি। গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত মুচিতে ভরে ওঠায় এবার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় চাষি ও বাগান মালিকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়: উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলি জমির আইল এবং রাস্তার দুই ধারে থাকা কাঁঠাল গাছগুলো এখন মুচিতে ভরপুর। যদিও পুরোপুরি পাকতে আরও মাস তিনেক সময় বাকি, তবে ছোট ছোট মুচিগুলোই জানান দিচ্ছে এই এলাকার মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য কতটা উপযোগী।
চাষিদের বক্তব্য: উপজেলার ভাবনচুর গ্রামের চাষি কবির হোসেন জানান, তার বাড়িতে বেশ কয়েকটি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। বড় গাছগুলোতে এবার ১০০ থেকে ২০০টি এবং ছোট গাছগুলোতে ৭০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত মুচি এসেছে। তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি এবার প্রতিটি গাছে শতাধিক করে কাঁঠাল পাবো। তবে ফল পরিপক্ক হতে আরও ৫০ থেকে ৭০ দিন সময় লাগবে।”
কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার: বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল কেবল ফল হিসেবেই নয়, এর প্রতিটি অংশই উপকারি। কাঁঠালের কচি মুচি দিয়ে তরকারি (এঁচোড়) এবং পাকার পর এর আঁটি দিয়ে সুস্বাদু ভর্তা ও শাক-সবজি রান্না করা হয়। এছাড়া কাঁঠালের পাতা গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। এমনকি কাঁঠাল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয় টেকসই আসবাবপত্র।
ব্যবসায়ী ও বিশিষ্টজনদের কথা: মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ এবং আষাঢ়ের শুরু থেকে বাজারগুলোতে পুরোদমে কাঁঠাল কেনাবেচা শুরু হবে। বিশিষ্ট সমাজসেবক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই অঞ্চলের কাঁঠাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও রপ্তানি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু বারোমাসি গাছে কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে, যার সুগন্ধে চারপাশ মৌ মৌ করছে।”
উপজেলা কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার নীলফামারীর জলঢাকায় কাঁঠালের আশাতীত ফলন হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।