
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম স্টাফ রিপোর্টার | হাতিয়া, নোয়াখালী
নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারী ধর্ষণের অভিযোগ আনলেও প্রতিবেশীরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও তিন সন্তানের জননী মারধরের শিকার হয়ে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে মারামারির কথা বললেও পরে তিনি চিকিৎসকের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।
হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “ভুক্তভোগী প্রথমে মারামারির বিষয়টি জানালেও পরবর্তীতে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। তাকে গাইনী বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।”
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে বেঁধে ফেলে। নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তার ওপর এই প্রতিহিংসামূলক হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “স্বামীসহ আমি রান্নাঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তারা স্বামীকে আটকে রেখে আমাকে নির্যাতন করে।”
সরেজমিনে ভুক্তভোগীর প্রতিবেশীরা জানান, তারা এমন কোনো ঘটনার কথা টের পাননি। এক প্রতিবেশী বলেন, “কাউকে ওই বাসায় আসতে দেখিনি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি।”
এদিকে অভিযুক্ত রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব বানোয়াট ও মিথ্যা। আমাকে এনসিপিতে (NCP) যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, রাজি না হওয়ায় ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
ঘটনাটি নিয়ে ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “চানন্দী ইউনিয়নে দুটি ধর্ষণের সংবাদ পেয়েছি। শাপলা কলিতে ভোট দেওয়াই তাদের অপরাধ। হাতিয়ায় দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপি নেতারা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দুর বলেন, “অভিযুক্ত রহিম কখনোই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন।”
নোয়াখালী হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল আনোয়ার বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি অতিরঞ্জিত প্রচারণা বলে মনে হচ্ছে। ঘটনাটিকে বড় ইস্যু করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তবে পুলিশের এই আগাম মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ভুক্তভোগীর প্রতি অবিচার হিসেবে দেখছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, তদন্তের পরেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।