1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাকেরগঞ্জে কান্তা হাসান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে রক্তলাল শিমুল, হুমকির মুখে পরিবেশের ভারসাম্য ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করায় বকশীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ জামালপুরে জনআস্থার শীর্ষে ওয়ারেছ আলী মামুন, মন্ত্রীত্বের দাবি জেলাবাসীর দেওয়ানগঞ্জে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হা/ম/লা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন তিন যুগের অবহেলা: ধুঁকছে রাজশাহীর বক্সার তৈরির কারখানা ‘মডার্ন বক্সিং ক্লাব’ বাকেরগঞ্জে যুবককে পি’টি’য়ে আহত করে মুখে বি/ষ ঢেলে হ/ত্যা/র চেষ্টা! বাকেরগঞ্জে কান্তা হাসান বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ ‘উৎসব’: বিধি লঙ্ঘন করে ৬০ জনের চাকরি, কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ ঝিনাইগাতীতে চলন্ত মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃ’ত্যু, চালক আশঙ্কাজনক

তিন যুগের অবহেলা: ধুঁকছে রাজশাহীর বক্সার তৈরির কারখানা ‘মডার্ন বক্সিং ক্লাব’

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে
তিন যুগের অবহেলা: ধুঁকছে রাজশাহীর বক্সার তৈরির কারখানা ‘মডার্ন বক্সিং ক্লাব’

আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী: রাজশাহীকে বলা হয় দেশের বক্সিংয়ের ‘আঁতুরঘর’। আর সেই ঐতিহ্যের অন্যতম সারথি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মডার্ন বক্সিং ক্লাব। দীর্ঘ ৩৬ বছরের পথচলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অসংখ্য বক্সার উপহার দিলেও, তিন যুগের বেশি সময় ধরে অবহেলা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধুঁকছে এই ক্লাবটি।

১৯৮৯ সালে প্রধান প্রশিক্ষক আবু সুফিয়ান চিশতি বাবুর হাত ধরে যাত্রা শুরু করে মডার্ন বক্সিং ক্লাব। পরবর্তীতে এটি রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিবন্ধিত ক্লাব হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উল্লেখ্য, আবু সুফিয়ান বর্তমানে বিকেএসপি-এর খুলনা আঞ্চলিক শাখায় ডেপুটি ডিরেক্টর (ডিডি) হিসেবে কর্মরত।

বাংলাদেশের বক্সিং ইতিহাসে রাজশাহীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয় ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে। সেই আসরে মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে বক্সিংয়ে প্রথম পদক জেতে বাংলাদেশ। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এই বক্সারের দেখানো পথ ধরেই পরবর্তীতে মডার্ন বক্সিং ক্লাব থেকে উঠে এসেছেন একের পর এক দেশসেরা অ্যাথলেট।

ক্লাবের বর্তমান প্রধান প্রশিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম মাসুদ জানান, ১৯৯১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০০ সাল থেকে তিনি কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। তার হাত ধরেই তৈরি হয়েছে:

  • ইসরাফিল: সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ী।

  • নাদিম হোসেন: বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী।

  • সাফল্য পেয়েছেন মাহমুদ আলী মিঠু, জনি, আলামিন, আরিফসহ বর্তমান প্রজন্মের আবু তালহা, রবিন, জাহিদুল, উৎসব ও লিমন।

বর্তমানে ক্লাবটিতে প্রায় ১০০ জন ছেলেমেয়ে নিয়মিত অনুশীলন করছে। তবে নামমাত্র ফি (ভর্তি ৩০০ টাকা, মাসিক ৩০-৫০ টাকা) দিয়ে ক্লাব পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষক মাসুদ বলেন:

“রাজশাহীকে ‘সিটি অব বক্সিং’ বলা হয়। এই খেতাব অর্জনের পেছনে আমাদের ক্লাবের অবদান অপরিসীম। কিন্তু একজোড়া গ্লাভসের দাম ৩ হাজার টাকা, টিথ গার্ড ও ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই সম্ভব নয়। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে ক্লাব থেকে সহায়তা দিতে হয়।”

দীর্ঘ ৩৬ বছর পার হলেও ক্লাবটির কপালে জোটেনি কোনো বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা সরকারি-বেসরকারি বড় কোনো অনুদান। আধুনিক রিং ও উন্নত সরঞ্জাম ছাড়া রাজশাহীর এই ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে অবিলম্বে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ক্রীড়ানুরাগীদের এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন ক্লাব সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট