
মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জলঢাকা (নীলফামারী): ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে একসময় প্রকৃতিতে দোল খেত রক্তলাল শিমুল ফুল। শীতের বিদায়লগ্নে শিমুল পাঁপড়িতে রঙিন হয়ে উঠত গ্রাম-বাংলার পথঘাট। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চল থেকে বিলুপ্তির পথে অপরূপ সৌন্দর্যের এই শিমুল গাছ।
দশক খানেক আগেও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের আনাচে-কানাচে কিংবা রাস্তার পাশে প্রচুর শিমুল গাছ চোখে পড়ত। এখন আর সেই চোখধাঁধাঁনো গাঢ় লাল রঙের শিমুল ফুলের দেখা মেলা ভার। পরিকল্পিতভাবে চারা রোপণ না করা এবং নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার কারণে এই উদ্ভিদটি এখন হুমকির মুখে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ বছরে নতুন প্রজন্মের কাছে শিমুল গাছ কেবল ছবির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে প্রকৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণত শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় এতে কাক, কোকিল, চিল ও বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধে বাস করত। গাছ কমে যাওয়ায় এসব পাখিরা তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ফলে ভারসাম্য হারাচ্ছে স্থানীয় বাস্তুসংস্থান।
শিমুল গাছ কেউ সাধারণত শখ করে লাগায় না। চৈত্র মাসে ফল পুষ্ট হয় এবং বৈশাখে তা ফেটে তুলা ও বীজ বাতাসের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই অযত্ন আর অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই এই গাছ বেড়ে ওঠে। একটি গাছ প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং শত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
শিমুল গাছের রয়েছে বহুমুখী উপকারিতা:
প্রাকৃতিক তুলা: শিমুল গাছ তুলা আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস। কৃত্রিম তুলার চেয়ে শিমুল তুলা অনেক বেশি আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত।
ভেষজ গুণ: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় শিমুল গাছের মূল, ছাল ও কচি ডগা দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক নজরুল ইসলাম বলেন, “শিমুল গাছ আপনা-আপনিই জন্মায়, কিন্তু জায়গার প্রয়োজনে মানুষ তা কেটে ফেলছে। শিমুল গাছ না থাকার কারণে আমরা বসন্তের প্রকৃত সুষমা হারাচ্ছি এবং কৃত্রিম তুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। পরিবেশের বিশুদ্ধতা রক্ষা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের সবার উচিত পরিকল্পিতভাবে শিমুলের চারা রোপণ করা।”
পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায়, বসন্তের এই রঙিন পরিচয়টি চিরতরে হারিয়ে যাবে।