1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাকেরগঞ্জে কান্তা হাসান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে রক্তলাল শিমুল, হুমকির মুখে পরিবেশের ভারসাম্য ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করায় বকশীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ জামালপুরে জনআস্থার শীর্ষে ওয়ারেছ আলী মামুন, মন্ত্রীত্বের দাবি জেলাবাসীর দেওয়ানগঞ্জে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হা/ম/লা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন তিন যুগের অবহেলা: ধুঁকছে রাজশাহীর বক্সার তৈরির কারখানা ‘মডার্ন বক্সিং ক্লাব’ বাকেরগঞ্জে যুবককে পি’টি’য়ে আহত করে মুখে বি/ষ ঢেলে হ/ত্যা/র চেষ্টা! বাকেরগঞ্জে কান্তা হাসান বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ ‘উৎসব’: বিধি লঙ্ঘন করে ৬০ জনের চাকরি, কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ ঝিনাইগাতীতে চলন্ত মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃ’ত্যু, চালক আশঙ্কাজনক

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে রক্তলাল শিমুল, হুমকির মুখে পরিবেশের ভারসাম্য

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে
প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে রক্তলাল শিমুল, হুমকির মুখে পরিবেশের ভারসাম্য

মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জলঢাকা (নীলফামারী): ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে একসময় প্রকৃতিতে দোল খেত রক্তলাল শিমুল ফুল। শীতের বিদায়লগ্নে শিমুল পাঁপড়িতে রঙিন হয়ে উঠত গ্রাম-বাংলার পথঘাট। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চল থেকে বিলুপ্তির পথে অপরূপ সৌন্দর্যের এই শিমুল গাছ।

অস্তিত্ব সংকটে শিমুল গাছ

দশক খানেক আগেও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের আনাচে-কানাচে কিংবা রাস্তার পাশে প্রচুর শিমুল গাছ চোখে পড়ত। এখন আর সেই চোখধাঁধাঁনো গাঢ় লাল রঙের শিমুল ফুলের দেখা মেলা ভার। পরিকল্পিতভাবে চারা রোপণ না করা এবং নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার কারণে এই উদ্ভিদটি এখন হুমকির মুখে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ বছরে নতুন প্রজন্মের কাছে শিমুল গাছ কেবল ছবির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

বিপর্যস্ত পরিবেশ ও পাখির আবাসস্থল

শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে প্রকৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণত শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় এতে কাক, কোকিল, চিল ও বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধে বাস করত। গাছ কমে যাওয়ায় এসব পাখিরা তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ফলে ভারসাম্য হারাচ্ছে স্থানীয় বাস্তুসংস্থান।

প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এক বিস্ময়

শিমুল গাছ কেউ সাধারণত শখ করে লাগায় না। চৈত্র মাসে ফল পুষ্ট হয় এবং বৈশাখে তা ফেটে তুলা ও বীজ বাতাসের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই অযত্ন আর অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই এই গাছ বেড়ে ওঠে। একটি গাছ প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং শত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

অর্থনৈতিক ও ভেষজ গুরুত্ব

শিমুল গাছের রয়েছে বহুমুখী উপকারিতা:

  • প্রাকৃতিক তুলা: শিমুল গাছ তুলা আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস। কৃত্রিম তুলার চেয়ে শিমুল তুলা অনেক বেশি আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত।

  • ভেষজ গুণ: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় শিমুল গাছের মূল, ছাল ও কচি ডগা দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নাগরিক ভাবনা

উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক নজরুল ইসলাম বলেন, “শিমুল গাছ আপনা-আপনিই জন্মায়, কিন্তু জায়গার প্রয়োজনে মানুষ তা কেটে ফেলছে। শিমুল গাছ না থাকার কারণে আমরা বসন্তের প্রকৃত সুষমা হারাচ্ছি এবং কৃত্রিম তুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। পরিবেশের বিশুদ্ধতা রক্ষা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের সবার উচিত পরিকল্পিতভাবে শিমুলের চারা রোপণ করা।”

পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায়, বসন্তের এই রঙিন পরিচয়টি চিরতরে হারিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট