
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে শেরপুর-জামালপুর অঞ্চল থেকে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন শেরপুর জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া আলম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং রাজপথের লড়াইয়ের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়া আলম একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জাসাস, যুবদল, কৃষকদলসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সুমাইয়া নিজেও দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সুমাইয়া আলমের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে যখন পুরুষ কর্মীরাও মাঠে নামতে ভয় পেত, তখন আমি নারী হয়ে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছি। হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, কিন্তু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। দলের এই দুর্দিনে যেহেতু পাশে ছিলাম, তাই আশা করি দল আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে।”
স্থানীয়দের মাঝে সুমাইয়া আলমের জনপ্রিয়তা লক্ষ্যণীয়। ছাত্রদল নেতা মুস্তাফিজুর রহমান মুক্তার বলেন, “সুমাইয়া আপু বিএনপির দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমরা তাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চাই।”
শেরপুরের স্থানীয় রিকশাচালক রহিম আলী বলেন, “মেয়েটি ভালো পরিবারের সন্তান। সাধারণ মানুষের সাথে তার যোগাযোগ আছে। তার মতো মানুষেরই সংসদে যাওয়া প্রয়োজন।” এমনকি জেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতাও জানিয়েছেন, যোগ্যতা ও ত্যাগের বিচারে সুমাইয়া আলম সংরক্ষিত আসনের জন্য শক্তিশালী দাবিদার।
নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সুমাইয়া আলম বলেন, “বিগত ১৭ বছরে শেরপুরে কোনো ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এই অঞ্চলের নারীরা অত্যন্ত অবহেলিত। আমি সুযোগ পেলে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেবো। যেহেতু আমি এই মাটির সন্তান, তাই এখানকার মানুষের সমস্যাগুলো আমার খুব ভালো জানা আছে।”
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের টেবিল—সর্বত্রই এখন আলোচনার বিষয়, শেরপুর-জামালপুরের অবহেলিত নারীদের কণ্ঠস্বর হয়ে সুমাইয়া আলম কি পারবেন সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে? সেদিকেই তাকিয়ে আছে শেরপুরবাসী।