
আবুল হাশেম, রাজশাহী | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহী: দেশের কারিগরি শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সামনে পরীক্ষা। তাতে শিক্ষার্থীরা ফেল করলে ছয় মাস পর তিনিও (সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফেল করবেন—এ অবস্থায় কারও বাঁচার উপায় নেই।”
শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
ক্লাস বর্জন: নিয়মিত ও সময়মতো ক্লাস না হওয়া।
পুরানো যন্ত্রপাতি: ল্যাবে থাকা যন্ত্রপাতি অত্যন্ত প্রাচীন, যা আধুনিক শিক্ষার অনুপযোগী।
ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব: হাতে-কলমে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক মেশিনারিজের তীব্র সংকট।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শিক্ষক জানান, কারিগরি শিক্ষায় বর্তমানে ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, যা জাতীয় উন্নয়নের জন্য বড় বাধা। এছাড়া ১৯ জন শিক্ষক অভিযোগ করেন যে, তারা দীর্ঘ সাত বছর ধরে চাকরি করলেও কোনো বেতন পাচ্ছেন না।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে আত্তীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
“কারিগরি শিক্ষাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এখানে সময় অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই।” — ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ১৯৬৩ সালে নির্মিত পুরনো ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে বলে শিক্ষকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রকল্পের মাধ্যমে এই অর্থ দ্রুত কাজে লাগানো হবে।
তিনি আরও বলেন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই আজ উন্নতির শিখরে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে একটি অভিন্ন ও বৈষম্যহীন একক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলূর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:
মো. দাউদ মিয়া, সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা মোট ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করেছে। এর মধ্যে সেরা ৬টি প্রকল্প আগামী ২৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।