1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নালিতাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ২৭৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, গ্রেফতার ৩ নীলফামারী জেলার শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড নির্বাচিত হলেন ডিমলার রওশন কবির ঝিনাইগাতীতে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন জোরদারে এমসিজিএলের ফান্ড মোবিলাইজেশন সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার ও সনদ বিতরণ মধুপুরে কারিতাসের দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য বৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ মধুপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ জলঢাকায় চাহিদার অর্ধেক মিলছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ডিমলায় পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত, কৃষি প্রযুক্তি প্রসারে নতুন প্রত্যাশা

নোয়াখালীতে ভূমি কর্মকর্তার প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতারা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীতে ভূমি কর্মকর্তার প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতারা

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার থাকলেও নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দার মিয়ার হাট ভূমি অফিসের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নামজারি (মিউটেশন) করতে চাওয়া হয় অতিরিক্ত টাকা, আর প্রতিবাদ করলেই জোটে গালিগালাজ ও হয়রানির হুমকি। বিষয়টি এখন এই কার্যালয়ে ‘ওপেন সিক্রেট’।

প্রকাশ্যে লেনদেনের ভিডিও চিত্র: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হায়দার মিয়ার হাট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি মো. আবদুল মতিন প্রকাশ্যেই অর্থ লেনদেন করছেন। ভিডিও চিত্রে তাকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেলেও অদৃশ্য এক শক্তির প্রভাবে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অভিযোগ আছে, তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিলেও তা মাঝপথেই গায়েব হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য: সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। অভিযোগ রয়েছে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামজারি সম্পন্ন করতে তিনি ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো টাকার বিনিময়ে দ্রুত সেবা পেলেও সাধারণ মানুষের ফাইল পড়ে থাকে মাসের পর মাস।

  • আবুল কাশেম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, মাত্র দুই হাজার টাকার কাজের জন্য তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দেওয়ায় তিন মাস ধরে তার ফাইল আটকে রাখা হয়েছে।

  • অ্যাডভোকেট উত্তম অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেবাগ্রহীতাদের ‘বের হয়ে যা’ বলে ধমক দেওয়া এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এই কর্মকর্তা।

  • বাদশা মিয়া নামে এক বৃদ্ধ জানান, ‘ওনার কাছে গেলে ভিক্ষার মতো টাকা চায়। টাকা না দিলে ধমক দিয়ে বের করে দেয়। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব?’

কর্তব্যকাজে অবহেলা: অভিযোগ রয়েছে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও এই কর্মকর্তা চা পান বা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত সময় কাটান, কিন্তু ফাইল দেখেন না।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মতিন গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, “নির্দিষ্ট করে যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, তবে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করছেন, একজন কর্মকর্তার এমন স্বেচ্ছাচারিতা পুরো ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। সাধারণ মানুষকে এই ‘ঘুষের জ্বালা’ থেকে মুক্তি দিতে প্রশাসনের স্বচ্ছ ও দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট