
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের শালহাটি সীমান্তে ধরধরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ধরধরা ব্রিজ থেকে পূর্বদিকে শাহিনুর ও শৈলেন চন্দ্রের জমি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজের উদ্বোধন করেন। “অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)”-এর আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও ইমরানুজ্জামান বলেন:
“সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি বর্ষা মৌসুমের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে খনন শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেন।
উদ্বোধনকালে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
প্রশাসন: সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আশরাফুল ইসলাম।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার, জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন ও গোলাম রব্বানী প্রধান।
অন্যান্য: জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা রোকনুজ্জামান, নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা কাজী হাবিবুর রহমান, নাউতারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে এলাকার কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যেত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই খাল পুনঃখননের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। জলাবদ্ধতা দূর হলে তারা নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইউএনও ইমরানুজ্জামান আরও জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রকল্প ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।