
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার (পঞ্চগড়): পঞ্চগড় জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নব-অনুমোদিত কমিটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে মূলধারার শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পঞ্চগড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান কমিটির বৈধতা তুলে ধরে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেলার অধিকাংশ শিক্ষক নেতার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে একটি শক্তিশালী জেলা কমিটি গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী উক্ত কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রেরণ করা হলে, সার্বিক দিক বিবেচনা করে গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় কমিটি এই নতুন কমিটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নাছের বাবুলের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে একটি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে অনুমোদিত কমিটি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয় এবং একটি সমান্তরাল কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বক্তাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ পক্ষকে একাধিকবার আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানানো হলেও তারা অনুপস্থিত থেকে সংগঠনের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাছের বাবুলের অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলা হয়, ইতিপূর্বেও তিনি একাধিকবার অননুমোদিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সংগঠনের শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে নাছের বাবুলকে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত নেতারা দৃঢ়ভাবে জানান, বর্তমানে অনুমোদিত এই কমিটি ১৯৬২-৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মূল ধারার অংশ। এটি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ এবং মানসম্মত শিক্ষা বিনির্মাণের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সকল বিভ্রান্তি কাটিয়ে জেলার সাধারণ শিক্ষক সমাজ এই অনুমোদিত কমিটির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ থেকে শিক্ষক কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।