
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো। রাজশাহীর বাঘায় পারিবারিক দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও মানসিক অশান্তির জেরে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) ভোরে উপজেলার বাঘা পৌর সভার ৩নং কলিকগ্রাম পশ্চিম পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই তরুণীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ: নিহত শাকিলা আক্তার (২২) বাঘা পৌর এলাকার পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে পার্শ্ববর্তী কলিগ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আশিক মাহমুদের সঙ্গে শাকিলার বিয়ে হয়। তাঁদের ঘর আলো করে ‘শান্ত’ নামে ৫ বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ লেগেই থাকত।
নেপথ্যের কারণ: প্রতিবেশীরা জানান, স্বামী আশিক মাহমুদ বর্তমানে জীবিকার তাগিদে অন্য জেলায় ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। স্বামী বাড়িতে না থাকায় পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাকিলার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও মনোমালিন্য চলছিল। এরই জেরে কয়েক দিন আগে শাকিলা রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা কাটাকাটি হয় শাকিলার। কথোপকথনের একপর্যায়ে শাকিলা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম অশান্তিতে ভোগেন। শুক্রবার ভোরে পরিবারের অজান্তেই নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। সকালে পরিবারের সদস্যরা ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
পুলিশের তৎপরতা: খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা বা কারণ রয়েছে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিহত শাকিলার ৫ বছরের শিশু শান্ত এখন মা-হারা হয়ে নির্বাক। একটি সাজানো সংসার কেন এভাবে তছনছ হয়ে গেল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।