
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরোঃ
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন রহস্যময় তীব্র গন্ধে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক্লাসরুমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় বুধবারও পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। দুপুরের টিফিনের পর ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাসে ফিরে পড়াশোনা শুরু করে, ঠিক তখনই কক্ষের ভেতর থেকে একটি তীব্র ও অস্বাভাবিক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের মতে, গন্ধটি এতটাই প্রকট ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই ক্লাসরুমের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রথমে দুইজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আতঙ্ক শুরু হয়। এরপর একে একে মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব নিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির দেখাদেখি পাশের ৭ম ও ৮ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।
উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসা:
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী সুস্থ বোধ করলেও কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বাসনা রানী বলেন, “এটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক একটি ঘটনা। টিফিনের পর পাঠদান শুরু হতেই ছাত্রীরা একে একে অসুস্থ হতে শুরু করে। আমরা ক্লাসরুমের এক কোণে একটি প্লাস্টিকের ডোপ (পাত্র) পড়ে থাকতে দেখি, যা থেকে তীব্র গন্ধ বের হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই পাত্রে থাকা কোনো রাসায়নিক বা বিষাক্ত কিছুর প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কান্নার রোল পড়ে যায়।”
বর্তমান পরিস্থিতি ও উদ্বেগ:
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত অভিভাবক ও স্থানীয় উৎসুক জনতা বিদ্যালয়ের সামনে ভিড় জমান। সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবক কান্নায় ভেঙে পড়েন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি থমথমে। প্লাস্টিকের ওই পাত্রটি কোথা থেকে এলো এবং এর ভেতরে কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো নাশকতা।