
মোঃ আমজাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত মাদক সেবনের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয়ভাবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়— একটি কক্ষে একজন ব্যক্তি গ্যাস লাইট জ্বালিয়ে দিচ্ছেন এবং অপর দুই ব্যক্তি ধোঁয়া টানছেন।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, ভিডিওতে মাদকসদৃশ কিছু সেবন করা ব্যক্তিটি গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান এবং কক্ষটি গোপীনাথপুর হাট অফিস। তবে এ দাবির সত্যতা বা কক্ষের পরিচয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অপু বলেন:
“ঘটনার বিষয়টি আমি কেবলই জানতে পেরেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জেলা ও উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে।”
কামরুজ্জামান কমল (সভাপতি, আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি):
“ভিডিওটি আজ আমাদের নজরে এসেছে। এখনো এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে সাইদুর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোলজার হোসেন (আহ্বায়ক, জয়পুরহাট জেলা বিএনপি):
“বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দের নজরে এসেছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাইদুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এই প্রতিবেদনে তার বক্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন ও দলীয় বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, অনেকেরই মত— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও পুরোপুরি যাচাই না করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়। তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।