1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রীর ৯ শর্তের চাপে যুবকের আত্মহত্যা: রামগতিতে চাঞ্চল্য শেরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখার দায়ে দুই ফার্মেসিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জয়পুরহাটে সচেতনতা বাড়াতে এনসিপির ব্যতিক্রমী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে তিতাসের অভিযান: কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন গোদাগাড়ীতে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ মধুপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত বাঘায় ২০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার: মাদক নির্মূলে পুলিশের বিশেষ অভিযান দেওয়ানগঞ্জে মাদকসহ দুই যুবক আটক: ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড রামেক হাসপাতালের পরিচালক পদে তানোরের কৃতী সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ ইসলামপুরে যুবদল নেতা কুদ্দুসের প্রতিবাদ: ‘ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’

টঙ্গীতে মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৪৩ বার পড়া হয়েছে
মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের পুনর্মিলনীতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণের মুহূর্ত।
মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীতে আনন্দঘন পরিবেশে তোলা একঝলক ছবি।

আশিকুর রহমান, গাজীপুর :

শিক্ষাজীবনের স্মৃতিগুলো মানুষকে সারাজীবন তাড়িত করে রাখে। সেই শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো অনেকটা নদীর জলের মতো—যা একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। কিন্তু স্মৃতিগুলো থাকে জীবনের পাতায় পাতায়। আর এই স্মৃতির টানেই এক হয় পুরনো বন্ধু-বান্ধবীরা। এমনই এক আবেগঘন ও আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী। দীর্ঘ ২১ বছর পর সহপাঠীদের মিলনমেলায় মিলিত হয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, খুঁজে পান হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর আবেশ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা আসমা জালাল, বর্তমান শিক্ষক এমদাদুল হক ও মনির হোসেনসহ আরও অনেকে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শুধু একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে সম্মান জানান। শিক্ষকরাও সাবেক শিক্ষার্থীদের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন এবং জীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে পুনর্মিলনীর সূচনা হয়। এরপর স্মৃতিচারণ পর্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মাইক্রোফোনে এসে শৈশবের নানা ঘটনা মনে করিয়ে দেন। কেউ প্রথম বেঞ্চের গল্প শোনান, কেউ আবার স্কুল পালানোর দুষ্টুমি বা খেলাধুলার স্মৃতিতে ডুবে যান। হাসি-ঠাট্টা আর কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

অনেকে জানান, কর্মব্যস্ত জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই ধরনের পুনর্মিলনী শুধু বন্ধুত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করে না, বরং হারানো স্মৃতিগুলোকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলে।

পুনর্মিলনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই এতে অংশ নেন। গান, আবৃত্তি, নাচ ও তাৎক্ষণিক অভিনয়ে মাতিয়ে তোলেন সবাইকে। কেউ কেউ গিটার হাতে তুলে নিয়ে বন্ধুরা মিলে গান পরিবেশন করেন। আবার কেউ কবিতা আবৃত্তি করে স্মৃতির ঝরনাধারায় ভিজিয়ে দেন উপস্থিত সবাইকে।

সাংস্কৃতিক পর্বে বিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিবিজড়িত ঘটনাগুলো মঞ্চে পরিবেশন করা হলে হাসি-ঠাট্টায় ভরে ওঠে পরিবেশ। দর্শকসারিতে থাকা শিক্ষকরাও নিজেদের শিষ্যদের এই আনন্দঘন পরিবেশে দেখে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দেন।

পুনর্মিলনীর আরেকটি বড় দিক ছিল ছবি তোলা। একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ব্যাচমেটরা দলবদ্ধ ছবি তুলেছেন। ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে নানা ভঙ্গিমায় ছবি তুলে সেই মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিবন্দি করেছেন সবাই। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, এই পুনর্মিলনী তাদের জন্য এক অমূল্য অভিজ্ঞতা। অনেকে বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমাদেরকে আবারও শৈশবের সেই নির্ভেজাল আনন্দে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এ ধরনের আয়োজন আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।”

অন্য একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা শুধু বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশাই করিনি, শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছি। তারা আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক। এই পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”

আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজন ছিল প্রাথমিক ধাপ। সামনে আরও বড় আকারে, আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এই পুনর্মিলনী করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, ভবিষ্যতে বিদেশে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও এসে অংশগ্রহণ করবেন।

এছাড়া পুনর্মিলনীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি স্থায়ী প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফোরাম গড়ে তোলার কথাও ভাবছেন আয়োজকেরা। এই ফোরামের মাধ্যমে সবাই নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারবেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান শিক্ষিকা আসমা জালাল বলেন, “আমাদের ছাত্রছাত্রীরা আজ সমাজের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। তাদের সফলতা দেখে আমরা আনন্দিত। আজকের এই পুনর্মিলনী আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্যও গর্বের।”

বর্তমান শিক্ষক এমদাদুল হক বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে তারা তাদের শিকড় ভুলে যায়নি। এ ধরনের আয়োজন তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে অটুট রাখবে।”

দিনব্যাপী পুনর্মিলনী শেষে বিদায়ের মুহূর্ত আসে। তবে সবার চোখেমুখে ছিল এক ধরনের তৃপ্তি আর আনন্দ। বিদায় নিলেও পরবর্তী পুনর্মিলনীতে আবারও মিলিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সবাই।

এ যেন শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর স্মৃতির এক বিশাল উৎসব। টঙ্গীর মজিদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের এই পুনর্মিলনী দীর্ঘদিন মনে রাখবে অংশগ্রহণকারীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট