
ফরিদ মিয়া / নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর চেয়ারম্যান এবং জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আ ক ম আনোয়ারুল ইসলাম চান। তবে সম্প্রতি তিনি নির্বাচনী প্রচারণার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
মাঠে-ময়দানে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এই রাজনীতিবিদ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন, যেখানে তাকে সরাসরি গরু ও লাঙল দিয়ে হাল চাষ করতে দেখা যায়।
ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “৪৩ বছর পর হাল চাষের সুযোগ হাতছাড়া করি নাই।” মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নির্বাচনের মাঠে এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নে কান্দিউরা গ্রামে গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে কৃষক মোহাম্মদ আলী তাঁকে মাঠে দেখতে পান। হাস্যরসের ছলে তিনি অ্যাডভোকেট চানকে লাঙলের হাল ধরতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে এই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাসিমুখে হাল ধরে মাঠে নেমে পড়েন এবং শিশুসুলভ সরলতায় কয়েক মিনিট হাল চাষ করেন।
উপস্থিত জনতা এতে উৎসাহিত হয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে ঐতিহ্যবাহী লাঙল-গরুর হাল নিয়ে সাবলীলভাবে কাজ করার পর অ্যাডভোকেট চান বলেন, “গ্রামের সাথে আমার আত্মার যোগ। ছোটবেলায় বাবার সাথে বহুবার হাল ধরেছি। ৪৩ বছর পর আজ সুযোগ এসে গেছে। রাজনীতি মানে মানুষের কাছে যাওয়া, তাদের জীবন বোঝা—সেই অনুভূতি থেকেই আজ আবার হাল ধরলাম।”
তাঁর এই উদ্যোগকে অনেকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে নির্বাচনী প্রচারের নতুন কৌশল বলেও অভিহিত করছেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভিডিও ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে নির্বাচনী মাঠে অ্যাডভোকেট আ ক ম আনোয়ারুল ইসলাম চান তাঁর প্রচারণা আরও জোরদার করেছেন। উন্নয়ন, জনসেবা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং তৃণমূল মানুষের অধিকার—এইসব ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সমর্থকরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং কৃষকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার মতো আচরণ তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।