
মোঃ আমজাদ হোসেন স্টাফ রিপোর্টার | ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এই আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সচিব আব্দুল বারী। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের আরও ৩ হেভিওয়েট নেতা।
মনোনয়ন জমা দেওয়া এই তিন নেতা হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ওমান বিএনপির কার্যকরী সদস্য ও সিআইপি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর রহমান এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্বাস আলী। তারা সবাই বিএনপির মূল মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামী ২০ জানুয়ারি। বিদ্রোহী প্রার্থীরা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে দল হয়তো তাদের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনবে এবং তাদেরই ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দ দেবে। মূলত এই আশাতেই তারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা বলেন, “২০০৮ সালে বিএনপির দুঃসময়ে আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। দল শেষ পর্যন্ত আমাকে বিবেচনা করলে বিপুল ভোটে জয়ী হবো।” তবে দল সিদ্ধান্ত না বদলালে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে, ওমান প্রবাসী বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর রহমান (সিআইপি) জানান, তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান যে তরুণ নেতৃত্বের কথা বলেছেন, সেই বিবেচনায় আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে দল যাকে চূড়ান্ত করবে আমি তার পক্ষেই কাজ করব, বিদ্রোহী হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব না।”
এই আসনে শুধু বিএনপি নয়, অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও সক্রিয় রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) এস এ জাহিদও এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
একনজরে জয়পুরহাট-২ আসনের সমীকরণ:
উপজেলা: কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর (৩টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন)।
মোট ভোটার: ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন।
নারী-পুরুষ বিন্যাস: পুরুষ ১,৭৪,১৭৭ জন; নারী ১,৭৭,৩৯৩ জন এবং হিজড়া ০২ জন।
ভোটকেন্দ্র: ১০৪টি স্থায়ী কেন্দ্র এবং ৬৭৫টি স্থায়ী ভোটকক্ষ।
এখন দেখার বিষয়, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে জয়পুরহাট-২ আসনের এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন কি না।