
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো: ঢাকা আন্তঃজেলা চোর চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্য এস এম বরকত উল্লাহ মিঠুকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত শনিবার পল্টন থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিঠুর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। অবশেষে আইনি চাপ ও গ্রেফতার এড়াতে না পেরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
একাধিক মামলার পেশাদার অপরাধী: পুলিশি তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিঠু একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির খিলগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং ২৮/৯২০), নেত্রকোনা সদর থানায় চুরির মামলা (এফআইআর নং ১৯) এবং ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় চুরির মামলা (এফআইআর নং ৬০/৭৫৬) উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানার একটি চুরির মামলাও (এফআইআর নং ১৬/১৬) তার বিরুদ্ধে তদন্তাধীন।
চাকরির আড়ালে টাকা আত্মসাৎ: এজাহার ও পল্টন থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরকত উল্লাহ মিঠু সর্বশেষ জাতীয় পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া’য় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের ৮ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘ চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত বছরের ২৮ অক্টোবর পল্টন থানায় মিঠুর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৮ ও ৪২০ ধারায় এম. আলী গ্রুপ অফ কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং ৪২)। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনাটি ঘটে।
পল্টন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহফুজ আক্তার বলেন, “মিঠুর বিষয়ে আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তার অপরাধ জগতের সংশ্লিষ্টতা এবং অন্যান্য চুরির ঘটনায় তার ভূমিকা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত এস এম বরকত উল্লাহ মিঠু নেত্রকোনা সদর থানার ওয়াইল পাড়া গ্রামের জাহেদ মিয়ার সন্তান।