
নিজস্ব প্রতিবেদক |
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্বতন্ত্র তথা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা। মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপের পর তিনি এই ঘোষণা দেন।
ঘটনার বিবরণ: দলীয় সূত্রে জানা যায়, সমাবেশ শেষে আমিনুল ইসলাম বাদশাকে নিজের বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ডেকে নেন তারেক রহমান। সেখানে আলাপকালে দলের বৃহত্তর স্বার্থে বাদশাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবলের পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি। দলীয় প্রধানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাৎক্ষণিক এই প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করেন সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান। এরপর দুই নেতা কোলাকুলি করেন এবং একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আমিনুল ইসলাম বাদশার বক্তব্য: সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, “সমাবেশের মঞ্চে কথা বলার সুযোগ না হওয়ায় তারেক রহমান আমাকে ডেকে তাঁর গাড়িতে তুলে নেন। সেখানে তিনি আমাকে অত্যন্ত সম্মান দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে কোনো কিছু না ভেবেই তাতে রাজি হয়েছি। এখন থেকে আমি এবং আমার সমর্থকরা ধানের শীষের বিজয়ে কাজ করব।”
সন্তুষ্ট প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবল: শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমিনুল ইসলাম বাদশা দলের প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছেন, আগামী দিনে দলও তাকে যোগ্য মর্যাদা দেবে। তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এখন ঐক্যবদ্ধ।” তিনি আরও জানান, দলীয় প্রধান তাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন মুরুব্বি হিসেবে বাদশার পরামর্শ মেনে দল পরিচালনা করা হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: আমিনুল ইসলাম বাদশা ঝিনাইগাতী উপজেলার তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান এবং তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, যার ফলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার সরে দাঁড়ানোর ফলে শেরপুর-৩ আসনে ধানের শীষের সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ভোটের সমীকরণ অনেকটাই বদলে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।