
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার | পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের বদলি আদেশ হওয়ার চার মাস অতিবাহিত হলেও তিনি কর্মস্থল ত্যাগ না করায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বদলি ঠেকাতে তিনি নানামুখী চাপ প্রয়োগ ও অধিদপ্তরে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
বদলি আদেশের চার মাস পার
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বোদা উপজেলায় যোগদান করেন ওয়াহিদুজ্জামান। এর কিছুদিন পর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও পান তিনি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায় গত বছরের নভেম্বর মাসে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে আদেশের চার মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে বর্তমান পদেই বহাল রয়েছেন।
সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি ও অসদাচরণের অভিযোগ লায়লা আক্তারসহ একাধিক সেবা প্রার্থীর অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের (ভিডাব্লিউবি) সমস্যা সমাধানের জন্য বারবার উপজেলা কার্যালয়ে গেলেও এই কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। এছাড়া সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে।
কর্মচারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও উপজেলা অফিসের একাধিক কর্মচারী জানিয়েছেন, বিতর্কিত এই কর্মকর্তা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য কর্মচারীদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বদলি ঠেকাতে ও তাকে আরও কিছুদিন বর্তমান কর্মস্থলে রাখার জন্য তিনি কর্মচারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার এমন একগুঁয়েমি ও অসৎ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন অধীনস্থ কর্মচারীরা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা উপ-পরিচালকের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বদলির আদেশ কার্যকর করে এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দ্রুত পঞ্চগড় থেকে অবমুক্ত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারী ও সেবা প্রার্থীরা।