
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়:
সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অনলাইন জুয়া খেলার অপরাধে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে এসব সাফল্য আসে।
অভিযানের বিবরণ: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ দিকনির্দেশনায় এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এসআই মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালায়।
মাদক উদ্ধার ও মামলা: অভিযান চলাকালীন সদর উপজেলার ৭নং হাড়িভাসা ইউনিয়নের হাড়িভাসা বাজার সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মোঃ সাদিকুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
অনলাইন জুয়া ও সাইবার মামলা: এদিকে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ায় আসক্তদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। অনলাইন জুয়া খেলারত অবস্থায় মোঃ নুরুজ্জামান হক প্রধান (৩৮) ও মোঃ জমির হোসেন নামে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ডিজিটাল প্লাটফর্মে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা: অভিযানের অন্য একটি অংশে মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৬) নামে একজনকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৭ দিনের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
পুলিশের বক্তব্য: সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলাজুড়ে মাদক, জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করতে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ও বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধমুক্ত পঞ্চগড় গড়তে সাধারণ মানুষের তথ্যগত সহযোগিতা চেয়েছে জেলা পুলিশ।
এ ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই ত্বরিত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করছেন, নিয়মিত এই ধরনের অভিযানের ফলে সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার এবং উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।