
শাহিন হাওলাদার, বরিশাল প্রতিনিধি বরিশাল | সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পান্ডব নদীর পাড় ও ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের উপজেলা সভাপতি নিমাই কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর কৌশল বদলে এখন দিনের পরিবর্তে গভীর রাতে ভেকু দিয়ে মাটি লুটে মেতেছে এই চক্র। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলসকাঠী ইউনিয়নের বাগদিয়া, ঢাপড়কাঠি ও সাদীশ আমতলী এলাকায় পান্ডব নদীর পাড় এবং খাস জমি কেটে অবৈধভাবে ইটভাটায় বিক্রি করছে নিমাই কীর্তনীয়া চক্র। আগে দিনরাত মাটি কাটা চললেও সংবাদ প্রকাশের পর এখন মধ্যরাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজকে বারবার জানালেও “ব্যবস্থা নিচ্ছি” বলেই তিনি দায়িত্ব শেষ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে কলসকাঠী বাজারে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে মাটি বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে চক্রটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, নিমাই কীর্তনীয়া ১৩ লক্ষ টাকার হিসাব দিলেও অন্য সদস্যরা ২৫ লক্ষ টাকা লাভের দাবি তোলেন। এসময় নিমাই প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা ‘খরচ’ হয়েছে বলে দাবি করেন। খরচের প্রমাণ দিতে না পারায় সহযোগীরা তাকে নাজেহাল করলে তিনি বাজার ছেড়ে পালিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ব্যবসায়ী জানান:
“নিমাই ঢাকা থেকে মাসিক চুক্তিতে ভেকু নিয়ে এসেছেন। তিনি দাবি করেন উপজেলা প্রশাসন, থানা ও স্থানীয় বড় বড় নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়। ঝামেলার কারণে এখন আমরা পরামর্শ করেই রাতে মাটি কাটছি, কারণ রাতে বাধা দেওয়ার কেউ নেই।”
নিমাই কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ, ৬০ একর খাস জমি দখল করে তরমুজ প্রকল্পসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদার জানান, “মাটি কাটার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে সাধারণ জনগণের প্রশ্ন, প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন নদীর পাড় ও ফসলি জমি ধ্বংস করা হলেও কেন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?