
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর: জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে অদম্য মনোবলে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে চলেছে শেরপুরের অদম্য মেধাবী তরুণী জুঁই মনি। ২০১২ সালে বাবা এবং ২০২১ সালে মাকে হারানো জুঁইয়ের চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। কিন্তু অটল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তার এই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় শেরপুর জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে জুঁই মনির হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সহায়তা হিসেবে ১০,০০০ টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।
চেক প্রদানকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, “জুঁই মনি আমাদের শেরপুর তথা দেশের সম্পদ। প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে সে যে সাফল্য পেয়েছে, তা জেলাবাসীর জন্য গর্বের। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সংগ্রাম সকল শিক্ষার্থীর জন্য অনুকরণীয়। আমি বিশ্বাস করি, সে ভবিষ্যতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ও দশের সেবা করবে এবং সমাজে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তার এই পথচলায় পাশে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব দীপঙ্কর রায় বলেন, “জুঁই মনির স্বপ্নপূরণের সঙ্গী হতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা চাই সে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে শেরপুরসহ সারাদেশের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠুক।”
অসহায় জুঁই মনির সাথে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার ভাই রিপন মিয়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও অভিভাবকহীন অবস্থায় বোনের স্বপ্নপূরণে জেলা পরিষদের এমন মানবিক সহযোগিতায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, জুঁই মনির বাবা-মা দুজনেই দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অভিভাবকহীন হয়েও পড়ালেখার প্রতি তার যে একাগ্রতা ছিল, তারই ফলশ্রুতিতে তিনি আজ উচ্চশিক্ষার দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয়রা মনে করছেন, জুঁই মনির এই সংগ্রাম প্রমাণ করে যে—স্বপ্ন দেখার সাহস আর নিরলস চেষ্টা থাকলে কোনো বাধাই সফলতার পথে অন্তরায় হতে পারে না। জেলা পরিষদের এই ক্ষুদ্র সহায়তা জুঁই মনির মতো অসংখ্য মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীর মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করবে।