
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর:
শেরপুর: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় তিনি উপজেলার গোল্লারপাড় নামক স্থানে নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।
পরিদর্শন ও বর্তমান পরিস্থিতি: প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক এই আকস্মিক পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, চেল্লাখালি নদীর পানি বর্তমান বিপদসীমার ৭৬ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমার প্রবণতা থাকলেও ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ভাঙনের তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেন।
উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ: পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নকলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব নালিতাবাড়ী), নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, শেরপুর এলজিইডি (LGED)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (EXEN), পানি উন্নয়ন বোর্ডের (WDB) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (SDE), নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রদান: পরিদর্শনকালে নদীভাঙন এলাকার ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি মাত্র বসতবাড়ির গৃহকর্ত্রী এক বয়স্ক মহিলাকে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দেখতে পান জেলা প্রশাসক। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই বৃদ্ধার হাতে শুকনো খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে।
নির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: পরবর্তীতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথে নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। তিনি নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে এবং বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয়েছে।