
মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি খাতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাংক ও আইএফএডির (IFAD) সহযোগিতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর কবীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলমগীর কবীর বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, পুষ্টি-সংবেদনশীল কৃষি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।” তিনি কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর ও বাজারমুখী কৃষি উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকারি কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
ডা. এটিএম ফয়জুর রাজ্জাক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
মো. রাজিবুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা
সোহেল রানা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা
রুকুনুজ্জামান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা
মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা
কর্মশালায় মূলত কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়। মূল আলোচনার বিষয়গুলো ছিল:
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ।
নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন।
নতুন কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান।
জলবায়ু সহনশীল উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার।
কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের কর্মশালা কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মশালার শেষ পর্বে কৃষিবিষয়ক একটি আকর্ষণীয় প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজয়ী ১০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।