
আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুর: মাঘের শেষেই প্রকৃতিতে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের কুহুতানে মুখরিত চারপাশ। এরই মাঝে শেরপুরের বিভিন্ন এলাকার আম গাছগুলোতে ফুটেছে সোনালি মুকুল, যা চারদিকে ছড়াচ্ছে মৌ-মৌ ঘ্রাণ। এই মুকুলই জানান দিচ্ছে— দুয়ারে কড়া নাড়ছে মধুমাস।
জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় আর রাস্তার ধারের আম গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গিয়ে এক নান্দনিক রূপ ধারণ করেছে। প্রকৃতি যেন সেজেছে নতুন এক হলুদ সাজে। অনেক গাছে মুকুল থেকে আমের গুটিও আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বসন্তের আগেই আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। যদিও শেরপুরে এখনো বড় পরিসরে বাণিজ্যিক আম চাষ গড়ে ওঠেনি, তবে মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা হাট-বাজার থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করছেন।
শেরপুর সদর উপজেলার দিঘাড় পাড় গ্রামের মনিরুজ্জামান মনির জানান:
“মাঘের শুরু থেকেই মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। এবার গত বছরের চেয়ে মুকুল অনেক বেশি। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু মুকুল ঝরে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া এমন থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। আমরা নিয়মিত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় স্প্রে করছি।”
আমের এই সম্ভাবনাময় ফলন ধরে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মশিউর রহমান বলেন, “এ বছর গরম আসার আগেই অনেক গাছে মুকুল ও গুটি চলে এসেছে। আমের ফলন ভালো পেতে হলে এই সময়টাতে সঠিক পরিচর্যা জরুরি। বিশেষ করে মুকুল যখন গুটি বা দানার মতো হয়, তখন ছত্রাকনাশক স্প্রে করা প্রয়োজন। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”
প্রকৃতির এই অপরূপ সাজ আর মুকুলের আধিক্য দেখে বাগান মালিক ও সাধারণ মানুষের চোখে এখন বাম্পার ফলনের স্বপ্ন। যথাযথ পরিচর্যা আর অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার শেরপুরের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও আম সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।