
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো রাজশাহী | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রশাসনকে সততা, দক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন,
“আমি রাজশাহীর মাটির সন্তান। আমরা একে অপরের সহকর্মী, কেউ কারও বস নই। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত—সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান। আমার সন্তানও যদি আইন লঙ্ঘন করে, তবে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার অবহেলা বরদাশত করা হবে না। কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও সেবামুখী মনোভাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করে।
আসন্ন রমজান মাসে জনদুর্ভোগ এড়াতে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবা খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে প্রতিদিন আঠারো ঘণ্টা কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের প্রতিটি দপ্তর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে তিনি খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম।
জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান।
বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই সভা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।