
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন
জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন দেশের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বিতর্কিত আমদানি শুল্ককে ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত এই শুল্কব্যবস্থা আদালতের রায়ে বড়সড় ধাক্কা খেল। তবে আদালতের এই নির্দেশে দমে না গিয়ে উল্টো আরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বিচারবিভাগের সঙ্গে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি অবস্থার আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক বসানো হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ বললেও ট্রাম্প কড়া ভাষায় আদালতের সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে তিনি পাল্টা আরও ১০ শতাংশ ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ বা আন্তর্জাতিক শুল্ক আরোপ করছেন। এমনকি এই শুল্কের হার ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক বাবদ ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার রাজস্ব আদায় করেছে। আদালতের রায়ের পর এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আদায়ের এই বিপুল অর্থ কি সংশ্লিষ্ট দেশ বা সংস্থাগুলোকে ফেরত দিতে হবে?
মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী হবে। সুপ্রিম কোর্ট শুল্ককে বেআইনি বললেও টাকা ফেরতের বিষয়ে সরাসরি কোনো নির্দেশ দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে:
বিষয়টি এখন নিম্ন আদালত বা আমেরিকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের (Court of International Trade) ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
প্রশাসন নিজে থেকে কোনো টাকা ফেরত দেবে না। ফলে যাদের টাকা আটকে আছে, তাদের আইনি লড়াইয়ের পথেই হাঁটতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বসে নেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরাও। ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি সংস্থা শুল্কের টাকা ফেরত পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এই আইনি জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, “আগামী পাঁচ বছর আমাদের সকলকে কোর্টের চক্কর কেটে বেড়াতে হবে।”
আদালতকে পাশ কাটাতে ট্রাম্প এবার ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারার আশ্রয় নিয়েছেন। এই ধারার অধীনে তিনি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানেও ট্রাম্পের হাত বাধা।
১২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর থাকতে পারে।
এর চেয়ে বেশি সময় এই শুল্ক বজায় রাখতে হলে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের সমর্থন আদায় করতে হবে।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্পের ‘শুল্ক-নির্ভর’ অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিল। একদিকে প্রশাসনিক জেদ আর অন্যদিকে বিচারবিভাগীয় ও আইনি প্রতিবন্ধকতা—এই দুইয়ের লড়াইয়ে মার্কিন অর্থনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।