
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি |
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। দীর্ঘ ৩৫ মাস ধরে বিল পরিশোধ না করায় গত ৬ জানুয়ারি থেকে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে পবিত্র রমজান মাসে অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি নামাজ আদায় করতে হচ্ছে মুসল্লিদের।
উপজেলা পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন জানান, “৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এটি এসটি লাইন হওয়ায় ব্যবহার না করলেও মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি ডিমান্ড চার্জ আসে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে নির্দেশনা রয়েছে—মডেল মসজিদগুলো বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রিপেইড মিটারে সংযোগ দেওয়া হবে।”
মসজিদটির দাতা সদস্য পান্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুরু থেকেই ৬–৭ লাখ টাকা বিল বকেয়া ছিল। প্রায় দেড় মাস আগে লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। এখন তৃতীয় রমজান চলছে, আমরা অন্ধকারেই নামাজ পড়ছি। এলাকার যুবসমাজের উদ্যোগে একটি প্রিপেইড লাইন আনার চেষ্টা চলছে।”
বিস্ময়কর বিষয় হলো, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। তিনি বলেন:
“আমি আজ জানতে পেরেছি যে মসজিদের বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের সাথে কথা বলেছি। যেহেতু এটি বিপুল পরিমাণ বকেয়া, তাই উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম হাবিব স্পষ্ট করেছেন যে, ওই মসজিদের বিদ্যুৎ লাইনটি তাদের নয়, বরং সেটি পিডিবির অধীনে।
উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, বাঘবেড় ইউনিয়নের রানীগাঁও এলাকায় নির্মিত এই মসজিদে একজন পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন ও দুইজন খাদেম কর্মরত আছেন। তাদের সম্মানী ইসলামিক ফাউন্ডেশন বহন করলেও বিদ্যুৎ বিল, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করা হয় মুসল্লিদের দানের অর্থে।
রমজান মাসে সরকারি একটি মডেল মসজিদে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।