
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার (পঞ্চগড়):
পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ঢাকাগামী একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ-সোনাহার সড়কের মগবাজার সংলগ্ন ধরধরা ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— দেবীগঞ্জ পৌর শহরের আব্দুলপুর এলাকার আজাদ হোসেনের স্ত্রী মমতাজ পারভীন (৩৫) এবং তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মুনতাহা। মমতাজ পারভীন স্থানীয় খারিজা গুয়াগ্রাম হাজরাডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষিকা ছিলেন। দুর্ঘটনায় মমতাজের ভাগনে ও মোটরসাইকেল চালক মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া মমতাজের অপর যমজ মেয়ে মুবাশ্বিরা আহত হলেও সে বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মমতাজ পারভীন তার দুই মেয়ে ও ভাগনেসহ মোটরসাইকেলে করে সোনাহার থেকে দেবীগঞ্জের দিকে ফিরছিলেন। ধরধরা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নীলফামারী ট্রাভেলসের (নাদের গ্রুপ) একটি দ্রুতগামী বাস তাদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকাগামী নীলফামারী ট্রাভেলসের বাসটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল। এছাড়া সড়কের পাশে বালু ডাম্পিং ইয়ার্ড থাকায় রাস্তায় বালুর স্তর জমে ছিল, যার ফলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা।
দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সোনাহার বাজার এলাকায় স্থানীয়রা বাসসহ (ঢাকা মেট্রো ব ১৩-২৪৩৩) চালককে আটকে রাখে। আটক বাস চালক মাহাবুল ইসলাম (৩৫) নীলফামারী জেলার ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস ও চালককে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালক পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।