
ফিরোজ শাহ, জামালপুর। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে একদল যুবকের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক চলছিল। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা সুলতান মাহমুদ বাবু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ ঘরানার ইউপি চেয়ারম্যানদের বিষয়ে বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী বিরূপ মন্তব্য করতে থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অবস্থা বেগতিক দেখে আব্দুল মালেকসহ অন্য চেয়ারম্যানরা বৈঠক ত্যাগ করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে আব্দুল মালেক ঘোনাপাড়ায় তাঁর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থানকালে একদল যুবক সেখানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে এবং টেনেহিঁচড়ে কার্যালয় থেকে বের করে অটোরিকশায় তুলে নেয়। তাঁরা চেয়ারম্যানকে পুলিশে সোপর্দ করার উদ্দেশ্যে ইসলামপুর থানার দিকে নিয়ে যেতে থাকে।
খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলামপুর থানা পুলিশ কার্যালয় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ‘বুলবুলি’ নামক স্থান থেকে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হামলার খবর শুনে ওই দিনই হাসপাতালে তাকে দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ১০টার দিকে পুলিশ তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
হামলার শিকার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন:
“এ বিষয়ে আমার কারও প্রতি কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। কপালে যা লেখা ছিল, হয়তো সেটাই হয়েছে।”
বেলগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা নেই। তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি। যারা এই হামলার সাথে জড়িত, তারা মাঠ পর্যায়ের কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপি যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”
ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নবাব আলী জানান, চেয়ারম্যান স্থানীয় জনরোষের শিকার হয়েছেন বলে তিনি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন।
তথ্যসূত্র: বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।