
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি | ১২ মে, ২০২৬
নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের মহোৎসব শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলা খাদ্য বিভাগের আয়োজনে স্থানীয় খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে এই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে অভিযানের শুভ সূচনা করেন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এসএম রেজাউল ইসলাম রেজু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। প্রকৃত কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য না থাকে, সেজন্যই সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। চালের গুণগত মান নিশ্চিত করে সঠিক সময়ে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে।”
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন:
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল ইসলাম।
খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মোছা. তারানা আফরিন।
এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন খান লুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং চালকল মালিক গ্রুপের প্রতিনিধিরা।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানের আওতায় রাণীনগরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে মোট ১,৯৬৯ মেট্রিক টন মোটা ধান ক্রয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান সরকারি গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, চুক্তিবদ্ধ স্থানীয় মিলারদের কাছ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে মোট ২,০৭৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোনো প্রকার অনিয়ম ছাড়াই প্রকৃত কৃষকদের তালিকা যাচাই করে এই ধান কেনা হবে।
এই সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। রাণীনগর উপজেলা খাদ্য বিভাগ আশা করছে, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো বেগ পেতে হবে না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত কর্মকর্তারা ধান ও চালের গুণগত মান পরীক্ষা করেন এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির আহ্বান জানান।
এলাকার সাধারণ কৃষকরা এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বাজারে ধানের দর ওঠানামা করলেও সরকারি গুদামে নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।