
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো:
আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং গবাদিপশু চুরি রোধে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাঘা থানা চত্বরে আয়োজিত সাপ্তাহিক চৌকিদার প্যারেডে গ্রাম পুলিশদের এই বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চৌকিদার প্যারেড ও তদারকি:
বাঘা থানা কর্তৃক আয়োজিত এই সাপ্তাহিক প্যারেড পরিদর্শন করেন চারঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খালেদ হোসেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেরাজুল হক। প্যারেড শেষে এএসপি খালেদ হোসেন গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন অপরাধের তথ্য দ্রুত থানা পুলিশকে অবহিত করার এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
গবাদিপশু রক্ষায় বিশেষ জোর:
প্যারেডে জানানো হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে বাঘা উপজেলার অনেক দরিদ্র কৃষক ও খামারি ঋণ নিয়ে কোরবানির জন্য গরু-ছাগল লালন-পালন ও মোটাতাজা করেছেন। বিগত বছরগুলোতে রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে গবাদিপশু চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ বছর যেন এমন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে থানা পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশদেরও সক্রিয়ভাবে রাত্রিকালীন টহলে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাট-বাজার ও যাত্রী নিরাপত্তা:
ঈদের আগে হাট-বাজার এলাকায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মালামাল থাকায় ঐসব এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নাড়ির টানে শহর থেকে গ্রামে ফেরা মানুষ যেন কোনো ধরনের ছিনতাইকারী বা দুষ্কৃতিকারীর কবলে না পড়ে, সেজন্য উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে বলে প্যারেডে জানানো হয়।
সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান:
অনুষ্ঠানে সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেন বলেন, কেবল থানা পুলিশের পক্ষে সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। গ্রাম পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব। বাঘা থানা এলাকাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
প্রশাসনের এমন কঠোর এবং আগাম পদক্ষেপে স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।