
নীলফামারী প্রতিনিধি:
পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা—এটিই যেন গত কয়েকদিনের নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী এলাকার ‘মেসার্স গ্রীন ফিলিং এন্ড এলপিজি স্টেশনে’ দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। সেখানে এখন আর তেলের জন্য হাহাকার নেই; বরং লম্বা লাইনের পরিবর্তে উল্টো মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পাম্পের কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।
২০ মিনিটেই শেষ দীর্ঘ লাইন শনিবার (২ মে) বিকেলে সরেজমিনে মেসার্স গ্রীন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল ৩টা থেকে মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেন পাম্পের কর্মচারীরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তেল নেওয়ার জন্য সকাল থেকে যারা অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের দীর্ঘ লাইন মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে পাম্পের পরিস্থিতি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে যে, মাঝে মাঝে দু-একটি মোটরসাইকেল আসছে এবং কর্মচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তেল সরবরাহ করছেন।
ভোক্তাদের মাঝে স্বস্তি যেখানে মাত্র দুদিন আগেও এক লিটার তেলের জন্য চালকদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হতো, সেখানে এখন চিত্র পুরোপুরি শান্ত। মিজানুর রহমান নামের এক মোটরসাইকেল চালক তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এর আগে দুইদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছিলাম। আজ এসে দেখি পাম্পে কোনো ভিড়ই নেই। নিয়ম অনুযায়ী ৭০০ টাকার তেল অনায়াসেই পেলাম। পাম্পের এমন স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে”।
পরিচালকদের বক্তব্য পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় ভিড় কমেছে। মেসার্স গ্রীন ফিলিং এন্ড এলপিজি স্টেশনের ম্যানেজার মুকুল ইসলাম জানান, “গত বুধবার আমরা ৪৫০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি করেছিলাম, সেদিনও পাম্পে খুব একটা লাইন ছিল না। আজ বিকেল থেকে আবারো বিক্রি শুরু করেছি কিন্তু কোনো ভিড় নেই। আশা করা যায় আগামী ১-২ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে”।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন ধরে জ্বালানি সংকটের গুজবে এবং সরবরাহ ঘাটতিতে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়লেও নীলফামারীর এই পাম্পের চিত্র নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না চালকদের, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক স্বস্তি বয়ে এনেছে।
প্রকাশকাল: ২ মে, ২০২৬।