
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে এক অসহায় নারীর প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২ মে) উপজেলার ঝিনা গ্রামের মাঠে প্রকাশ্যে দিবালোকে এই ধান লুটের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি নওগাঁ মৌলভিপাড়া গ্রামের সানজিদা শারমিন নামে এক নারীর রাণীনগরের ঝিনা মৌজায় দলিল মূলে প্রায় দুই বিঘা (সাড়ে ৬০ শতক) ফসলি জমি রয়েছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ওই জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন তিনি। জমির ধানগুলো পেকে যাওয়ায় তিনি ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ভুক্তভোগী সানজিদা শারমিনের অভিযোগ, শুক্রবার ঝিনা গ্রামের প্রভাবশালী এনামুল হকের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্যে তার জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে প্রভাবশালীরা চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক মাঠ থেকে ধানগুলো লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সানজিদা শারমিন বাদী হয়ে এনামুল হককে প্রধান বিবাদী করে ১৫ জনের নামে রাণীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর আর্তনাদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সানজিদা শারমিন বলেন, “আমার প্রাক্তন স্বামী আমাকে এই সাড়ে ৬০ শতক জমি লিখে দিয়েছেন এবং জমিটি দীর্ঘ দিন ধরে আমার দখলেই রয়েছে। অনেক কষ্ট করে এবার ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু এনামুল হকের নেতৃত্বে একদল লোক আমার জমির ধানগুলো লুট করে নিয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৬০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে”। তিনি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের শ্রমের ফসল ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিপক্ষের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত এনামুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, জমিটি তার নিজের কেনা। তিনি বলেন, “আমি নিজেই ধান লাগিয়েছি এবং আমিই কেটেছি। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত যে রায় দিবে আমি সেটা মেনে নিব”। তবে মামলার রায় হওয়ার আগেই কেন ধান কাটা হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পুলিশের পদক্ষেপ এ বিষয়ে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধান কাটার ঘটনায় এক নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।
মাঠ থেকে পাকা ধান লুটের এই ঘটনায় ঝিনা গ্রামের সাধারণ কৃষকদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, যদি এভাবে প্রভাবশালীরা অসহায় মানুষের ফসল লুট করে নিয়ে যায়, তবে কৃষি কাজে আগ্রহ হারাবে প্রান্তিক চাষিরা।
প্রকাশকাল: ২ মে, ২০২৬।