
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে আরজিনা খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মনির হোসেনের (২৪) বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে দ্রুত অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার রণচণ্ডী গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীনের ছোট মেয়ে আরজিনা খাতুনের সঙ্গে শালবাহান ইউনিয়নের শানুবালাবাড়ি গ্রামের মো. শাহাজালালের ছেলে মনির হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই মনির তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।
গত ৩ মে (রবিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কোনো এক বিষয় নিয়ে আরজিনা ও মনিরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রাগের মাথায় মনির হোসেন তার স্ত্রীকে লাঠি বা ভোঁতা কিছু দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পাষণ্ড স্বামীর বেধড়ক পিটুনিতে আরজিনা গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের প্রাথমিক পরামর্শে তাকে দ্রুত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, অ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর নেওয়ার পথে ঠাকুরগাঁও এলাকায় পৌঁছালে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আরজিনা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় মনির হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযানে নামে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০৩, তারিখ: ৪ মে) রুজু করা হয়েছে। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ওসি আরও বলেন, “পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।”
এদিকে, আরজিনার অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে রণচণ্ডী এবং শানুবালাবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।