
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে খামারের প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী খামারি। গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সানোখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারি কাজী নাছিরুল আলম বাদী হয়ে সোমবার (১১ মে) বিকেলে একই বাড়ির চারজনের নাম উল্লেখ করে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সানোখালি গ্রামের বাসিন্দা কাজী নাছিরুল আলম দীর্ঘ দিন ধরে নিজের মৎস্য খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তার খামারে বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে খামারে গিয়ে দেখা যায়, রুই, কাতল, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ মরে ভেসে উঠছে। খামারের পাহারাদার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার রাতে তিনি অভিযুক্তদের খামারের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখেছেন।
ভুক্তভোগী কাজী নাছিরুল আলম জানান, একই বাড়ির কাজী রাজু গংদের সাথে তাদের দীর্ঘ দিন ধরে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা ইতিপূর্বেও তার বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, “কাজী রাজু (৩৫), কাজী মহসিন (২৮), কাজী শাহজাহান (৬০) ও ফারজানা ইয়াসমিন (৩৬) পরিকল্পিতভাবে আমার মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে আমার প্রায় ২২ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে, যা আমাকে আর্থিকভাবে পথে বসিয়ে দিয়েছে।”
নাছিরুল আলম আরও জানান, প্রতিপক্ষরা শুধুমাত্র মৎস্য খামারের ক্ষতি করেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা তার গরুর খামারের ক্ষতিসাধনসহ পরিবারের সদস্যদের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, “মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগের একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মৎস্য খামারে বিষ দিয়ে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।