
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় বাশহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মরহুম মোসলেম উদ্দিন মাস্টারের স্মরণে এবং সকল মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফেরাত কামনায় এক বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৪ নম্বর চন্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে এই ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। খামারগাঁও বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুজাহিদ বিন নূরের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আবুল খায়ের ত্বোহার সঞ্চালনায় মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন ফুলপুর আদর্শ মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব হযরত মাওলানা মুফতি আলমগীর হোসাইন।
এছাড়াও বয়ান করেন মসজিদে আকবর, নারায়ণগঞ্জ (ঢাকা)-এর খতিব হযরত মাওলানা আমিনুল ইসলাম আমিনী, চন্ডীপাশা শাহী নূর জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ, বায়তুল আমান জামে মসজিদ নরসিংদীর খতিব হযরত মাওলানা আব্দুল মতিন উসমানী, ধুরুয়া খালপাড় জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা জুবায়ের হোসেনসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য ওলামায়ে কেরামগণ।
এলাকাবাসী ও যুবসমাজের সার্বিক সহযোগিতায় এবং মরহুম মোসলেম উদ্দিন মাস্টারের পরিবারবর্গের একক আয়োজনে মাহফিলটি সম্পন্ন হয়। এতে নান্দাইল উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রায় ৪০ সদস্যের একটি দল অংশগ্রহণ করেন।
মাহফিলে উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে মরহুম মোসলেম উদ্দিন মাস্টারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মৃতিচারণ করেন নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল।
অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ওয়াজ মাহফিলের প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বাদ আসর থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নাশিদ ও ওয়াজের মাধ্যমে মাহফিল পরিচালিত হয়। এতে পাঁচ থেকে সাত শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—কোনো প্রকার মাইকিং বা লিফলেট বিতরণ ছাড়াই মরহুম মোসলেম উদ্দিন মাস্টারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দল-মত নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।
মাহফিলের আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের ছোট ছেলে হোসেনপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম লিটন। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার মরহুম বাবার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সবশেষে সকল মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন হযরত মাওলানা আমিনুল ইসলাম আমিনী।