
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অদৃশ্য কাগজপত্রের মাধ্যমে সমবায়, মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষী সমিতি নিবন্ধন দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া এনআইডি (NID), জাল মৎস্যজীবী কার্ড এবং ভুয়া উপ-আইন ব্যবহার করে এসব সমিতি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জালিয়াতি চক্রটি একজনের নামে শতাধিক সমিতি নিবন্ধন করিয়ে নিয়েছে। পুরো উপজেলার পুকুর ও জলাশয়গুলো কুক্ষিগত করতে এই কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত এবং জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলামসহ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকে। সূত্রমতে, সমিতি প্রতি ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হলেই মিলছে এসব ভুয়া নিবন্ধন।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, গাঙ্গোবাড়ি এলাকার পুকুর সিন্ডিকেটের মূল হোতা বিশু এখন এলাকায় ‘ভয়ংকর বিশু’ নামে পরিচিত। তিনি অবৈধ কাগজপত্র ও হাইকোর্টে রিট পিটিশনের মাধ্যমে একাই ৫শ থেকে ৬শ পুকুর নিজের দখলে রেখেছেন। এমনকি এসিল্যান্ড সবুজ হাসানের স্বাক্ষর এবং ট্রেজারি চালান জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই কাজে জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌসী তাকে সরাসরি সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, একতা, মাধবপুর, গোদাগাড়ী পৌরসভা ও বরেন্দ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ একাধিক সমিতির অফিস এবং সদস্যদের তথ্যের সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
বাস্তবতা: ‘হাটপুকুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’র সভাপতি হিসেবে তালিকায় থাকা খালিদ হাসানকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তিনি চারঘাটের বাসিন্দা এবং এই সমিতির বিষয়ে কিছুই জানেন না।
ভুয়া গ্রাম: ‘রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমিতি’ (নিবন্ধন নং-২০২৫.১.০২.৮১৩৪.০৩৯৮) যে ঠিকানায় নিবন্ধিত, বাস্তবে সেই নামে কোনো গ্রামের অস্তিত্বই নেই। ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জনই নির্বাচনি এলাকার বাইরের।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বালিয়াঘাটা গ্রামের মো. এমদাদুল হকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসাম্মাৎ শামীম আরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গোদাগাড়ী উপজেলার জলমহাল ইজারায় অন্য উপজেলার সমিতিকে অবৈধভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা ২০০৯ সালের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার পরিপন্থী। এতে স্থানীয় ২৫০টি সমিতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা সমবায় অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি পরিদর্শক মো. খাইরুল ইসলাম এবং তানোর অফিসের অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন।
টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে গোদাগাড়ী উপজেলা সমবায় অফিসার জিগার হাসরত বলেন,
“জেলা সমবায় কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা অভিযোগগুলো তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম জানান,
“সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো আমার জানা নেই। তবে তথ্য গোপন করে কেউ লাইসেন্স নিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”