1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুর সদরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির জমকালো উদ্বোধন রাণীনগরে হাটে কোরবানির গরু কিনতে এসে ক্রেতার এক লাখ টাকা খোয়া আস্থার প্রতিচ্ছবি ইউএনও মিল্টন চন্দ্র পাল: কালভার্ট থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র, সর্বত্রই কড়া নজর পঞ্চগড়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের সুফল নিয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত রাণীনগরে সরকারিভাবে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বাঘায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন: আছান আলীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘স্বপ্ননীড়’-এর চাবি শেরপুরের নকলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন; প্রধান অতিথি ফাহিম চৌধুরী মধুপুরে দুই মাদক কারবারিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বকশীগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ অসুস্থতার অজুহাতে ছুটির অভিযোগ: ক্লাসের বদলে দেখা মিলল আদালতে! বাঘায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে এমপি চাঁদ: নগদ অর্থ সহায়তা ও সরকারি ঘর প্রদানের আশ্বাস

অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন: রাজশাহীতে অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে ‘পুকুর সিন্ডিকেট’

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭৬ বার পড়া হয়েছে
অদৃশ্য কাগজপত্রে সমবায় নিবন্ধন: রাজশাহীতে অফিস ও ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে 'পুকুর সিন্ডিকেট'

আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অদৃশ্য কাগজপত্রের মাধ্যমে সমবায়, মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষী সমিতি নিবন্ধন দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া এনআইডি (NID), জাল মৎস্যজীবী কার্ড এবং ভুয়া উপ-আইন ব্যবহার করে এসব সমিতি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এক ব্যক্তির দখলে শতাধিক সমিতি

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জালিয়াতি চক্রটি একজনের নামে শতাধিক সমিতি নিবন্ধন করিয়ে নিয়েছে। পুরো উপজেলার পুকুর ও জলাশয়গুলো কুক্ষিগত করতে এই কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত এবং জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলামসহ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকে। সূত্রমতে, সমিতি প্রতি ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হলেই মিলছে এসব ভুয়া নিবন্ধন।

সিন্ডিকেটের মূলে ‘ভয়ংকর বিশু’

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, গাঙ্গোবাড়ি এলাকার পুকুর সিন্ডিকেটের মূল হোতা বিশু এখন এলাকায় ‘ভয়ংকর বিশু’ নামে পরিচিত। তিনি অবৈধ কাগজপত্র ও হাইকোর্টে রিট পিটিশনের মাধ্যমে একাই ৫শ থেকে ৬শ পুকুর নিজের দখলে রেখেছেন। এমনকি এসিল্যান্ড সবুজ হাসানের স্বাক্ষর এবং ট্রেজারি চালান জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই কাজে জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌসী তাকে সরাসরি সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।

অস্তিত্বহীন ঠিকানা ও ভুয়া সদস্য

তদন্তে দেখা গেছে, একতা, মাধবপুর, গোদাগাড়ী পৌরসভা ও বরেন্দ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ একাধিক সমিতির অফিস এবং সদস্যদের তথ্যের সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

  • বাস্তবতা: ‘হাটপুকুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’র সভাপতি হিসেবে তালিকায় থাকা খালিদ হাসানকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তিনি চারঘাটের বাসিন্দা এবং এই সমিতির বিষয়ে কিছুই জানেন না।

  • ভুয়া গ্রাম: ‘রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমিতি’ (নিবন্ধন নং-২০২৫.১.০২.৮১৩৪.০৩৯৮) যে ঠিকানায় নিবন্ধিত, বাস্তবে সেই নামে কোনো গ্রামের অস্তিত্বই নেই। ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জনই নির্বাচনি এলাকার বাইরের।

আইনি নোটিশ ও প্রশাসনিক তৎপরতা

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বালিয়াঘাটা গ্রামের মো. এমদাদুল হকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসাম্মাৎ শামীম আরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গোদাগাড়ী উপজেলার জলমহাল ইজারায় অন্য উপজেলার সমিতিকে অবৈধভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা ২০০৯ সালের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার পরিপন্থী। এতে স্থানীয় ২৫০টি সমিতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে, মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা সমবায় অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি পরিদর্শক মো. খাইরুল ইসলাম এবং তানোর অফিসের অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে গোদাগাড়ী উপজেলা সমবায় অফিসার জিগার হাসরত বলেন,

“জেলা সমবায় কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা অভিযোগগুলো তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম জানান,

“সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো আমার জানা নেই। তবে তথ্য গোপন করে কেউ লাইসেন্স নিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট