
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় ফাল্গুনের শেষে আচমকা ঝড়-বৃষ্টিতে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ভুট্টা গাছ ভেঙে মাটিতে নুইয়ে পড়ায় প্রান্তিক চাষিদের চোখে এখন অন্ধকার। বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকার ফসল নষ্ট হওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেক কৃষকের।
উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝুনাগাছচাপানী মধ্যপাড়া এলাকায় ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সরজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ অপরিপক্ব ভুট্টা গাছ মাটিতে শুয়ে আছে। চাষিরা জানান, এসব নষ্ট হওয়া ক্ষেত থেকে এখন গবাদি পশুর খাদ্য ও জ্বালানি ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার আশা নেই।
অল্প পরিশ্রমে লাভ বেশি হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছিলেন। অনেকেই চড়া দামে জমি লিজ নিয়ে বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। দক্ষিণ ঝুনাগাছচাপানী গ্রামের কৃষক সফিকুল ইসলাম সফি বলেন,
“বিঘাপ্রতি ১৩ হাজার টাকা চুক্তিতে ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সংসার কীভাবে চলবে, আর ঋণের টাকাই বা কীভাবে শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
একই গ্রামের আরেক কৃষক মোজাম্মেল হক মোজা আক্ষেপ করে বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করে এখন তিনি নিঃস্ব।
কৃষি বিভাগ জানায়, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কম পানির রবিশস্য হিসেবে ভুট্টা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। ডিমলা উপজেলা বন্যাকবলিত হওয়ায় ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষ এখানে লাভজনক। কিন্তু এক রাতের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেছে।
স্থানীয় সমাজসেবক জাহাঙ্গীর আলম জানান, সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বর্গাচাষিরা। সরকারিভাবে দ্রুত আর্থিক সহায়তা না দিলে এসব প্রান্তিক কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।