1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহীতে ‘লাশ নিয়ে ব্যবসা নয়’ স্লোগানে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করছেন যুবদল নেতা রবি তেঁতুলিয়ায় কাজ ছাড়াই প্রকল্পের সাড়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: পাষণ্ড স্বামী গ্রেপ্তার জামালপুর ৩৫ বিজিবির অভিযানে ৭১ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে: এক মণ ধানের দামে মিলছে না শ্রমিক শ্রীবরদী সীমান্তে বিজিবির জালে মানব পাচার চক্রের ‘গডফাদার’ ফারুক রাণীনগরে অসহায় নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে স্বপ্ন ভেঙে ফিরল নিথর দেহ: ঝিনাইগাতীতে প্রবাসী রনির দাফন সম্পন্ন নীলফামারীতে পাল্টে গেছে চিত্র: দীর্ঘ লাইনের বদলে চালকদের অপেক্ষায় পাম্প কর্মচারীরা রৌমারী সীমান্তে বিজিবির বড় অভিযান: ভারতীয় মদ ও মোটরসাইকেলসহ আটক ১

তেঁতুলিয়ায় কাজ ছাড়াই প্রকল্পের সাড়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
তেঁতুলিয়ায় কাজ ছাড়াই প্রকল্পের সাড়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় কোনো ধরনের কাজ সম্পন্ন না করেই একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সরেজমিনে কাজের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ না মেলায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রকল্প ও বরাদ্দের নেপথ্যে

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া বাংকুর বাড়ি থেকে নতুন ব্রিজ হয়ে হাকিমপুরে আব্দুল আজিজের বাড়ি পর্যন্ত ক্যানেলের দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ ও মাটি ভরাটের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি শর্ত অনুযায়ী, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে বাস্তব চিত্র

সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্যানেলের দুই পাশের রাস্তার কোনো উন্নয়নই হয়নি। বরং সংস্কারের অভাবে কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ ও বেলাল হোসেন জানান, গত ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে এই এলাকায় মাটির কোনো কাজ হতে তারা দেখেননি। তাদের মতে, কাগজে-কলমে রাস্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কোনোভাবেই ব্যবহারযোগ্য নয় এবং এ পথে মানুষ বা যানবাহন চলাচলও করে না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম দফার কাজের কোনো অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি রহস্যজনকভাবে বাকি অর্ধেক টাকাও উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

দুর্নীতির এই অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, “এই প্রকল্প সম্পর্কে তৎকালীন ডিসি ও ইউএনও মহোদয় অবগত আছেন। আগে ক্যানেলের ওপর শুধু ব্রিজ ছিল কিন্তু কোনো রাস্তা ছিল না। পরে আমরা সেখানে চলাচলের উপযোগী রাস্তা করেছি। বর্তমান বরাদ্দ সেই কাজেরই একটি অংশ এবং কাজ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।”

অন্যদিকে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ক্যানেলে ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে আগে দুদক তদন্ত করেছিল। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ক্যানেলের দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজ করা হয় এবং চলতি অর্থবছরে সেই কাজের ব্যয় মেটাতেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও তড়িঘড়ি করে পুরো অর্থ উত্তোলন করায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও হরিলুট বন্ধে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা এই দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট