1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফ্যাসিস্ট সরকার ২০০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে: হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান ডিমলায় ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক বিক্রেতা আটক নান্দাইলে কৃষকের গোয়ালঘরে আগুন, গরুসহ পুড়ে ছাই; ক্ষতি আড়াই লাখ টাকা ঘোড়ার গাড়িতে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়: ডিমলায় গুরু-ভক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত শেরপুর পুলিশ লাইন্স একাডেমি পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বকশীগঞ্জে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ল নকলের দৃশ্য: দাখিল পরীক্ষার্থী বহিষ্কার জুঁই মনির স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে শেরপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ ডিমলায় নেই জ্বালানি তেলের ভিড়, মিনিটেই মিলছে সেবা বাঘায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ: বালকে মনিগ্রাম ওালিকায় জয়গুন্নেছা চ্যাম্পিয়ন তৃণমূল পেরিয়ে জেলা নেতৃত্বে নুরনবী ইসলাম—সংগ্রাম, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি

শেরপুরের কুসুমহাটি সবজি মোকাম: প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার হাতবদল, সমৃদ্ধ হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে
শেরপুরের কুসুমহাটি সবজি মোকাম: প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার হাতবদল, সমৃদ্ধ হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি

মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর:

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা শেরপুর। এই জেলার সবজি চাষের সুখ্যাতি এখন দেশজুড়ে। বিশেষ করে শেরপুর সদর উপজেলার কুসুমহাটি বাজারটি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সবজির মোকাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আঞ্চলিক অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্রে প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ, যেখানে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার সবজি কেনাবেচা হচ্ছে।

ভোরের আলোয় সরগরম মোকাম

প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কুসুমহাটি বাজার এলাকায় মানুষের কোলাহল আর যানবাহনের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে। সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ছাড়াও নকলা, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত টাটকা সবজি নিয়ে এখানে হাজির হন। পিকআপ ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ট্রাকে করে আসা হরেক রকমের শাকসবজিতে ভরে ওঠে পুরো বাজার এলাকা।

হরেক পণ্যের সমাহার ও বাজার দর

মোকাম ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে আলু, টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, কাঁচামরিচসহ মৌসুমি সবজির বিশাল সমাহার। প্রতিদিন কয়েকশ’ মণ শাকসবজি এখানে আমদানি হয়। পাইকার ও আড়তদারদের হাকডাকে বাজার জমজমাট থাকে সারাদিন। কৃষকদের মতে, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কম থাকায় তারা সরাসরি পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান

কুসুমহাটি বাজারে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার বেশি লেনদেন কেবল কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি স্থানীয় সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাত, লোড-আনলোড শ্রমিক, প্যাকেজিং ব্যবসা এবং খুচরা বাজারের সাথে যুক্ত কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বড় বড় ট্রাকে করে চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য ও আবাদের চিত্র

শেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু জানান, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৯ হাজার ১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, “শেরপুরে সারা বছরই কোনো না কোনো সবজি উৎপাদিত হয়। কৃষকেরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন এবং কুসুমহাটি বাজারের মতো বড় মোকাম থাকায় তারা পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছেন।”

অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি

বাজারের পরিধি ও গুরুত্ব বাড়লেও কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাজারের শেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা, বৃষ্টির দিনে কাদা এড়াতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যাতায়াতের রাস্তা আরও প্রশস্ত করা জরুরি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে কুসুমহাটি মোকাম থেকে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সবজি সরবরাহ চেইনে এটি আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

শেরপুরের এই সবজি মোকামটি প্রমাণ করছে যে, সঠিক বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে গ্রামীণ অর্থনীতি কতটা দ্রুত বদলে যেতে পারে। কৃষকের ঘাম আর শ্রমের বিনিময়ে কুসুমহাটি বাজার আজ জেলা তথা উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক অনন্য প্রতীক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট