
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর: শেরপুরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি অভিযানের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে ২০২৬) সকালে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেরপুর সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এই সংগ্রহ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
শেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন পিয়াংকা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাকিল আহম্মেদ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া, সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শফিউল আলম চান, কৃষক দল নেতা শফিকুল ইসলাম গোল্ডেন, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল বাতেন এবং শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ হাসান বাদলসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী পর্বে স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানানো হয়, চলতি বোরো মৌসুমে শেরপুর জেলায় সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ও চাল সংগ্রহের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যমাত্রার অধীনে চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৭ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন ধান, ২৫ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল এবং ২ হাজার ১০২ মেট্রিক টন সুগন্ধি আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন পিয়াংকা বলেন, “কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তারা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক ও ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান। কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল চক্র যেন এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ কৃষকদের হয়রানি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন জানান, সংগ্রহ অভিযান শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রকৃত কৃষকরা যাতে সরাসরি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জেলায় বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এর ফলে স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এবং কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন।